সুদানের পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর আল-ফাশির দখল করে প্যারামিলিটারি বা আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সেখানে জাতিগত বিদ্বেষমূলক হত্যাকাণ্ড এবং শত শত পুরুষকে জোরপূর্বক গুম করেছে। এমন ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাহায্যকর্মীরা। তারা বলছেন, আরএসএফ যোদ্ধারা বেসামরিক পুরুষদের আলাদা করে নিয়ে গেছে, এরপরই শোনা গেছে গোলাগুলির শব্দ। খবর রয়টার্স।
আল-ফাশির ছিল দারফুরে সুদানিজ সেনাবাহিনীর (এসএএফ) সর্বশেষ প্রধান ঘাঁটি। শহরটি আরএসএফের হাতে চলে যাওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধের আড়াই বছরে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। আল-ফাশির পতনের পর শহর থেকে পালিয়ে আসা এক ব্যক্তি আলখেয়ার ইসমাইল। তিনি স্থানীয় এক সাংবাদিককে দেয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, আরএসএফ যোদ্ধারা কয়েকশ' পুরুষকে ধরে একটি জলাধারের কাছে নিয়ে আসে। সেখানে জাতিবিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করার পর তাদের ওপর গুলি চালানো হয়।
ইসমাইল জানান, তার অপহরণকারীদের মধ্যে একজন তার স্কুলজীবনের চেনা। সেই ব্যক্তি তাকে চিনতে পেরে অন্যদের হত্যা করার পরও তাকে পালাতে সাহায্য করে।
রয়টার্স চারজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ছয়জন সাহায্যকর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তারা সবাই নিশ্চিত করেছেন যে, আল-ফাশির থেকে পালানো মানুষদের কাছাকাছি গ্রামগুলোয় জড়ো করা হয়েছিল। পুরুষদেরকে নারী ও শিশুদের থেকে আলাদা করে নিয়ে যাওয়া হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, পুরুষদের সরিয়ে নেয়ার পরই গুলির শব্দ শোনা গেছে।
স্যাটেলাইট ইমেজে দৃশ্যমান রক্তের দাগ দারফুরে গণহত্যা প্রমাণ করেছে। ছবি- এবিসি নিউজ
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর শুক্রবার জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন খবর এসেছে যে, শত শত বেসামরিক মানুষ এবং নিরস্ত্র যোদ্ধাদের আরএসএফ মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
অ্যাক্টিভিস্ট এবং বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করে আসছিলেন যে, আল-ফাশির আরএসএফ দখল করলে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, তাদের কাছে আসা তথ্যানুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর প্রায় ৫০০ বেসামরিক মানুষ এবং সামরিক বাহিনীর যোদ্ধারা পালাতে চেয়েছিল। কিন্তু আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা বেশিরভাগকেই হত্যা বা বন্দি করেছে। বন্দিদের লিঙ্গ, বয়স বা জাতিগত পরিচয় অনুযায়ী আলাদা করা হচ্ছে এবং মুক্তিপণের জন্য আটকে রাখা হয়েছে। ৫ মিলিয়ন থেকে ৩০ মিলিয়ন সুদানিজ পাউন্ড পর্যন্ত যেতে পারে মুক্তিপণ।
এদিকে, আরএসএফ এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এসব তাদের শত্রুদের বানানো গল্প। তারা উল্টো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ এনেছে। আরএসএফের এক উচ্চপদস্থ কমান্ডার এসব ঘটনাকে ‘সেনাবাহিনী এবং তার মিত্রদের মিডিয়া বাড়াবাড়ি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ছদ্মবেশী সেনা ও যোদ্ধাদের জেরার জন্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে, তবে 'হত্যার কোনো ঘটনা ঘটেনি'।
তবে আরএসএফ প্রধান মোহামেদ হামদান দাগালো বুধবার রাতে এক ভাষণে তার যোদ্ধাদের বেসামরিকদের সুরক্ষার নির্দেশ এবং আটককৃতদের মুক্তি দেয়ার আদেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।