লাল পতাকা ও প্রতিশোধের স্লোগানে আলী খামেনিকে বিদায় জানাচ্ছে ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে জড়ো হয়েছে লাখো মানুষ।

সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য শুক্রবার সাবেক এ সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়। আগামীকাল শোকযাত্রার আগ পর্যন্ত এখানেই থাকবেন তিনি। তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে অবস্থান নিতে শুরু করেন। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় কমপ্লেক্সটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

শোকগ্রস্ত জনতার অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা ও প্ল্যাকার্ড, যা ইরানি সংস্কৃতিতে ‘প্রতিশোধের আহ্বান’ হিসেবে গণ্য হয়। এ সময় জনতা ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দেয়। কফিনটি জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং খামেনির প্রতীকী কালো পাগড়িতে সজ্জিত ছিল। খামেনির কফিনের পাশে হামলায় নিহত তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মরদেহও রাখা হয়। এর মধ্যে ১৪ মাস বয়সী তার নাতনির একটি ছোট কফিনও আছে।

বিশাল এ ধর্মীয় কমপ্লেক্সে কফিন স্থাপনের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকারসহ শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দীর্ঘদিন পর জনসমক্ষে দেখা গেছে রেভল্যুশনারি গার্ডের নতুন প্রধান আহমাদ বাহিদিকে। তবে এখনো এ শোকযাত্রায় উপস্থিত হননি আলী খামেনির ছেলে ও সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বাবার মৃত্যুর পর থেকে হামলায় আহত মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এ শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় তিনি উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বনেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি, চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের উপপ্রধান হে উই এবং ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ ইরান ও ইরাকের প্রধান শিয়া ধর্মীয় কেন্দ্র কোম, নাজাফ ও কারবালায় নেয়া হবে। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার তার নিজ শহর ও তীর্থস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।

আরও