এইচ-১বি ভিসার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত এক লাখ ডলারের আবেদন ফি বাতিল করে দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। আদালত রায়ে বলেছেন, বিশেষায়িত খাতে উচ্চ দক্ষ বিদেশী কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত এ ভিসা কর্মসূচিতে এমন শর্ত আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের ছিল না। খবর সিএনএন।
মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ লিও সোরোকিন বলেন, ফেডারেল অভিবাসন নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন আনার ক্ষমতা শুধু কংগ্রেসের রয়েছে। এ ফি কার্যত এক ধরনের কর। আইনপ্রণেতারা নির্বাহী শাখাকে একতরফাভাবে এমন পরিবর্তন আনার অনুমতি দেননি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মনোনীত বস্টনভিত্তিক বিচারক সোরোকিন ৪২ পৃষ্ঠার রায়ে বলেন, এইচ-১বি আবেদনের ওপর কর আরোপ করার মতো কোনো ক্ষমতা বা অর্পিত কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের ছিল না।
গত ডিসেম্বরে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের জোট এ মামলা দায়ের করে। এরও কয়েক মাস আগে এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার হচ্ছে দাবি করে লাখ ডলার আবেদন ফি নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাম্প।
এ ভিসার মাধ্যমে বিদেশী পেশাজীবীরা বিশেষায়িত পেশায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান। আবেদনকারীদের সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়।
ভিসাটির মেয়াদ তিন বছর এবং পরে আরো তিন বছরের জন্য নবায়ন করা যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই কর্মসূচি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকতে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে নীতিগত পরিবর্তনের ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে এবং সেই ক্ষমতার আওতায় তিনি এই ফি আরোপ করতে পারেন— রায়ে বিচারক সোরোকিন প্রশাসনের এ যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, ওই আইনগুলোর কোথাও কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে অভিবাসন খাতে কর আরোপের ক্ষমতা দেয়নি।
মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিওজে) মুখপাত্র নাটালি বালদাসারে বলেন, বিচার বিভাগ ‘মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” কর্মসূচিকে পুরোপুরি সমর্থন করে।’ তিনি উল্লেখ করেন, এ নীতির বিরুদ্ধে আনা আরেকটি পৃথক মামলায় প্রশাসন এর আগে অনুকূল রায় পেয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, ‘যেসব কোম্পানি বেআইনিভাবে মার্কিন কর্মীদের শোষণ করে এবং এইচ-১বি কর্মসূচিকে নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার করে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’