পাকিস্তানকে আরো ৭০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে আইএমএফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে আরো ৭ বিলিয়ন তথা ৭০০ কোটি ডলার নতুন ঋণ পাচ্ছে পাকিস্তান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে আরো ৭ বিলিয়ন তথা ৭০০ কোটি ডলার নতুন ঋণ পাচ্ছে পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে আইএমএফ ও পাকিস্তান সরকার এরই মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএমএফের এ ঋণ টালমাটাল পাকিস্তানি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে শাহবাজ শরিফের সরকারকে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ দেবে। 

জন্মের পর থেকে ২৩ বার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আর্থিক সহায়তা নিয়েছে পাকিস্তান। এবার ২৪তম ঋণ নিতে যাচ্ছে দেশটি। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, এ ঋণ এমন এক সময়ে নেয়া হলো যখন চলতি বছর দেশটিকে ২৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। 

উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর শুক্রবার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। তবে ঋণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়নি। খুব শিগগির আইএমএফের নির্বাহী পরিষদ এ ঋণের অনুমোদন দেবে, যা কেবলই একটি আনুষ্ঠানিকতা। 

আইএমএফ তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, আইএমএফ ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এখন এটি আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আইএমএফ জানিয়েছে, নতুন এ ঋণের লক্ষ্য হলো পাকিস্তান যাতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারে। একই সঙ্গে আরো শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।

তবে ঋণ কবে ছাড় করা হবে বা আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে কবে ঋণটি অনুমোদিত হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। 

পাকিস্তানের অর্থনীতি অনেক দিন ধরেই ধুঁকছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার দুই অংকের ঘরে। কমেছে প্রবৃদ্ধির গতি। বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভও পড়তির দিকে। গত বছরও পাকিস্তান আইএমএফের ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া থেকে বেঁচেছে; সেবার ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ পেয়েছিল দেশটি। সেই ঋণ কর্মসূচি এপ্রিলে শেষ হয়েছে। ঋণের পর পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি গত জানুয়ারির ২৮ শতাংশ থেকে নেমে বর্তমানে ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আইএমএফের নতুন এ ঋণ পাওয়ার জন্য শাহবাজ শরিফের সরকারকে বেশ কিছু অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন খাতে করহার বাড়িয়েছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী। কর বৃদ্ধির সঙ্গে জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর মতো অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে তাকে। বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে কেবল অসন্তোষই বাড়িয়েছে। 

সম্প্রতি দেশটির অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেছেন, পাকিস্তানের যে পরিস্থিতি তাতে কর আদায় বাড়ানো না গেলে এটাই শেষ নয়, ভবিষ্যতে আরো ঋণ নিতে হবে।

তবে সংকট কাটিয়ে উঠতে শুধু আইএমএফের ওপর নির্ভর করছে না পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীন সফর করেছেন। তিনি এসব দেশের বিনিয়োগ চেয়েছেন।

চলতি অর্থবছরের জন্য পাকিস্তান ১৩ লাখ কোটি রুপি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি। এছাড়া দেশটি রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায়। পাকিস্তানের এমন বাজেট আইএমএফকে খুশি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও