রিয়াদে সতর্কতা জারির পর শোনা গেছে বিস্ফোরণের শব্দ

ইয়েমেনে সংঘাত জুলাইয়ে তীব্র হওয়ার পর সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগ উঠেছে হুথিদের বিরুদ্ধে। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদে এ সতর্কতা জারির ঘটনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আজ শনিবার ভোরে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে দেশটির সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির সাংবাদিকরা। রাজধানীর পাশাপাশি এর পূর্বে অবস্থিত আল-খারজ শহরেও সম্ভাব্য হামলার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়।

এদিন রাত ৩টার কিছু আগে রিয়াদের বাসিন্দাদের মুঠোফোনে পাঠানো এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, পুরো এলাকা এখন শত্রুদের বিমান/ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে আছে। এ অবস্থায় নাগরিকদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সতর্কবার্তা জারির কিছুক্ষণ পরই এএফপির সাংবাদিকেরা রিয়াদে দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।

এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর হামলার ঝুঁকি কমে যাওয়ায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে ‘অল-ক্লিয়ার’ ঘোষণা করে।একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি লোকজনকে ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া কিংবা ছবি ও ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে।

মাত্র দুদিন আগেই পশ্চিম সৌদি আরবের তাইফে একটি ভূপাতিত হুথি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত ও দুজন আহত হন। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানায়, ধ্বংস করা ওই ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শহরে পড়ে যাওয়ার পর তাদের দল ঘটনাস্থলে যায়।

নিহত ব্যক্তি ইয়েমেনের নাগরিক। আর আহত দুজনের মধ্যে একজন সৌদি নারী এবং অন্যজন পাকিস্তানের নাগরিক। পাকিস্তানি নাগরিকের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকটি ভবন ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইয়েমেনে সংঘাত জুলাইয়ে তীব্র হওয়ার পর সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগ উঠেছে হুথিদের বিরুদ্ধে। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদে এ সতর্কতা জারির ঘটনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের মদদে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে তাদের বাহিনী। এর জবাব দেয়ারও হুমকি দেন তিনি।

এদিকে হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানিয়েছে, ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এর মধ্যে হাজ্জাহ প্রদেশের আবস শহরে দুটি হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সম্প্রচারমাধ্যমটি। এতে চারটি যানবাহন ধ্বংস এবং একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া তাইজ প্রদেশের তিনটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্য করে পৃথক হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-মাসিরাহ।

ইয়েমেনের জনবহুল অধিকাংশ এলাকা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে থাকা হুথিরা চলতি মাসে আকস্মিক সামরিক অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে দেশটির পুরো লোহিত সাগর উপকূল দখলে নেয় তারা। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে বিকল্প পথ হিসেবে বাব আল-মান্দাব ব্যবহার করত। এখন হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ওই সমুদ্রপথে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে।

সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, জুলাইয়ের পর থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রফতানি কমেছে। তবে গত এক সপ্তাহে তেলবোঝাই পাঁচটি জাহাজ ওই পথ দিয়ে গেছে।

হুথিরা অবশ্য বলছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য প্রণালিটি উন্মুক্ত ও অবাধে চলাচলের সুযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘ শুক্রবার জানিয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে। ফলে আগে থেকেই মানবিক সংকটে থাকা ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

আরও