ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

সেন্টকম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার দেয়া হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার ও প্রয়োজনে অন্যত্র স্থানান্তরের সুযোগ দেয়া হবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া তথ্যদাতাকে প্রয়োজনে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ ঘোষণা দেয়। খবর টাইমস অব ইসরায়েল, গলফ নিউজ।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার দেয়া হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার ও প্রয়োজনে অন্যত্র স্থানান্তরের সুযোগ দেয়া হবে। বিজ্ঞানী ও গবেষকেরাও এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

এ সংক্রান্ত বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তাব্যবস্থা-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে ইরানের ব্যর্থতার কারণে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নজরদারিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে সংস্থাটি ধারাবাহিক তথ্যপ্রবাহ হারিয়েছে। তবে কোন ধরনের তথ্যের জন্য ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো শর্ত উল্লেখ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। সবশেষ শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ইরানে হামলা না চালাতাম, তাহলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা তা ব্যবহার করত। তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করে দিত।’

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, আট মাসের যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটি এখন যুদ্ধের অবসান চায়।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা খুব করেই একটি চুক্তি করতে চায়।’

এদিকে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকাতে মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার রয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, তার সরকার এখনো সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে আরো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে। এর মধ্যে মধ্য ইরানের কথিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ অন্যতম। স্থানটিকে সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেখানে এ ধরনের কোনো স্থাপনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে তেহরান।

আরও