দীর্ঘদিনের শাসক দল জাপানের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রথম দফার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে কোনো প্রার্থী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় প্রধানমন্ত্রী পদ নির্ধারণের এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াই এখন রান অফ (দ্বিতীয় দফা ভোট) পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রথম দফায় শীর্ষ স্থান দখল করেছেন রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী সানায়ে তাকাইচি, এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কৃষি মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন জয়ী হয়ে জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। খবর রয়টার্স।
শনিবার (৪ অক্টোবর) এলডিপি সদর দপ্তরে দলের ৫৯০ জন প্রতিনিধির (২৯৫ জন সংসদ সদস্যের ভোট এবং সমসংখ্যক তৃণমূল সদস্যের ভোট) ফলাফলে জানা যায়—
সানায়ে তাকাইচি (৬৪) প্রথম দফায় ১৮৩ ভোট পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন। তার জয়ের অর্থ হতে পারে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর অভিষেক। অন্যদিকে, ৪৪ বছর বয়সী শিনজিরো কোইজুমি ১৬৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমির পুত্র শিনজিরো কোইজুমি জয়ী হলে তিনি হবেন আধুনিক জাপানের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী।
প্রথম দফায় অন্য তিন প্রার্থী চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিমাসা হায়াশি (১৩৪ ভোট), তাকায়ুকি কোবায়াশি (৫৯ ভোট), এবং তোশিমিতসু মোতেগি (৪৯ ভোট) পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী সানায়ে তাকাইচি এবং শিনজিরো কোইজুমি এখন দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় দফায় ভোটের কাঠামো পাল্টে যায়। এ দফায় মূল সিদ্ধান্ত নেবেন এলডিপির ২৯৫ জন সংসদ সদস্য এবং দলের ৪৭টি প্রিফেকচারাল চ্যাপ্টার, যেখানে দলীয় সদস্যদের ভোটের অনুপাত কমে যায় এবং সংসদ সদস্যদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রান অফ ভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এতে পরাজিত তিন প্রার্থীর সমর্থক সংসদ সদস্যদের ভোট কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফলাফল।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেইরু ইশিবার পদত্যাগের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন জোট পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এতে নতুন এলডিপি নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করতে হতে পারে। তবে, যেহেতু তারা এককভাবে বৃহত্তম দল, তাই স্বাভাবিক প্রথা অনুযায়ী সরকার গঠনের প্রথম সুযোগটি তারাই পাবে।
তাকাইচি রক্ষণশীল ও কট্টর অবস্থান এবং কোইজুমি অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী সংস্কারবাদী ইমেজ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে যিনিই জয়ী হন না কেন, তিনি অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্বল ইয়েনের মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নেবেন।