রামাফোসার সঙ্গে বৈঠকে শ্বেতাঙ্গ নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ট্রাম্পের ‘অ্যামবুশ’

প্রায় ৬০ জন আফ্রিকানারকে (দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী) যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয় দেয়ার এক সপ্তাহ পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। আর আশ্রয় দেয়ার এই ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্ষোভের জন্ম দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক মেরামতের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক বৈঠকে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে প্রকাশ্যে শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের হত্যার অভিযোগ এনে চাপে ফেলেন। খবর বিবিসি।

প্রায় ৬০ জন আফ্রিকানারকে (দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী) যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয় দেয়ার এক সপ্তাহ পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। আর আশ্রয় দেয়ার এই ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্ষোভের জন্ম দেয়। রামাফোসা বৈঠকে মূলত বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছিলেন, কারণ জুলাই থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক কার্যকর হলে দক্ষিণ আফ্রিকান পণ্যে ৩০ শতাংশ ট্যারিফ বসবে।

বুধবার (২১ মে) হোয়াইট হাউসে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের সময় ট্রাম্প একটি ভিডিও দেখান, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরোধী রাজনৈতিক নেতা জুলিয়াস মালেমার কণ্ঠস্বর শোনা যায়, যিনি গান গাইছিলেন: ‘শুট দ্য বুর [আফ্রিকানার], শুট দ্য ফার্মার’। এরপরই দেখানো হয় এক মাঠজুড়ে অসংখ্য সাদা ক্রস– যেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ভিডিও ব্যাপারে কথা বলার সময় দাবি করেন, এটি দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের কবরস্থান।

তবে বাস্তবে এই ক্রসগুলো ছিল এক প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার কৃষকদের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রতীকী প্রদর্শনী, কবর নয়।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট রামাফোসার হাতে তুলে দেন কিছু প্রিন্ট করা প্রতিবেদন, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় তথাকথিত শ্বেতাঙ্গ গণহত্যার অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাইবেন।

ভিডিওটিতে বিরোধীদের স্লোগান সম্পর্কে রামাফোসা জবাব দেন, ‘আপনি যেটা দেখলেন, যেসব বক্তব্য শোনা গেল সেটা আমাদের সরকারি নীতি নয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় বহু দলীয় গণতন্ত্র রয়েছে, যেখানে মানুষ নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার রাখে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সরকারি নীতিমালার সঙ্গে মালেমার ওই বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই, এমনকি পার্লামেন্টে বলা হলেও নয়। তারা একটি ছোট সংখ্যালঘু দল, যাদের অস্তিত্ব আমাদের সংবিধান অনুযায়ী অনুমোদিত।‘

রামাফোসা ট্রাম্পকে যুক্তি দেন, ‘যদি গণহত্যা চলত, তাহলে আমার সঙ্গে এরনি এলস, রেটিফ গুসেন ও জোহান রুপার্ট এখানে থাকতেন না।‘

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তখন বলেন, ‘কিন্তু কৃষকেরা কৃষ্ণাঙ্গ না। আমি ভালো বা খারাপ বলছি না, কিন্তু কৃষকেরা কৃষ্ণাঙ্গ না।‘

দক্ষিণ আফ্রিকায় সম্প্রতি জমি অধিগ্রহণ আইন পাস হয়েছে, যার অধীনে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই জমি দখলের সুযোগ রাখে সরকার। তবে এখনো কোনো জমি এই আইনে দখল করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগ আনার পর ক্ষুব্ধ হয় ট্রাম্প প্রশাসন। এর পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি মার্কিন সহায়তা স্থগিত করা হয় এবং আফ্রিকানারদের শরণার্থী হিসেবে গ্রহণের ঘোষণা আসে।

এই বিতর্কিত বৈঠকের পর প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হেলেনা হামফ্রে বলেন, ‘এটা ছিল এক পরিকল্পিত অপমান। ট্রাম্প রামাফোসাকে ফাঁদে ফেলেছিলেন।‘

এদিকে, মালেমা এই বিতর্ক নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ওয়াশিংটনে কিছু বৃদ্ধ লোক আমার নামে গসিপ করছে।‘

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, শ্বেতাঙ্গ গণহত্যার দাবি ভিত্তিহীন, এবং জাতিগত সমতার ভিত্তিতে ভূমি সংস্কার চালু থাকবে।

আরও