রয়টার্স এক্সক্লুসিভ

যুদ্ধকালে ইরাকে মিলিশিয়াদের ওপর সৌদি বিমান হামলা, কুয়েত থেকেও আঘাত

এক পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকজন জানান, যুদ্ধবিমানগুলো সৌদি আরবের উত্তর সীমান্তঘেঁষা ইরাকে মিলিশিয়াদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পশ্চিমা ওই কর্মকর্তা বলেন, কিছু হামলা ৭ এপ্রিলে শুরু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আশপাশে সংঘটিত হয়েছিল

ইরান যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান ইরাকে তেহরান-সমর্থিত শক্তিশালী শিয়া মিলিশিয়াদের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে কুয়েত থেকেও ইরাকের ভেতরে পাল্টা হামলা চালানো হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

এ হামলাগুলো ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘটিত বৃহত্তর সামরিক প্রতিক্রিয়ার অংশ, যা মূলত আড়ালেই ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে এ সংঘাত শুরু হয় এবং পরে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এক পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকজন জানান, যুদ্ধবিমানগুলো সৌদি আরবের উত্তর সীমান্তঘেঁষা ইরাকে মিলিশিয়াদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পশ্চিমা ওই কর্মকর্তা বলেন, কিছু হামলা ৭ এপ্রিলে শুরু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আশপাশে সংঘটিত হয়েছিল।

সূত্রগুলোর মতে, যেসব স্থান থেকে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছিল, সেগুলোই ছিল হামলার লক্ষ্য।

ইরাকি সূত্রগুলো সামরিক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অন্তত দুই দফায় কুয়েতের ভূখণ্ড থেকে ইরাকের দিকে রকেট হামলা চালানো হয়। এপ্রিল মাসে এক দফা হামলায় দক্ষিণ ইরাকে মিলিশিয়াদের অবস্থানে আঘাত হানা হয়। এতে কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয় এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনার একটি স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়।

রয়টার্স নিশ্চিত হতে পারেনি যে কুয়েত থেকে ছোড়া রকেটগুলো কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনী নাকি সেখানে উপস্থিতি মার্কিন বাহিনী ছুড়েছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয় ও ইরাকি সরকারও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমন, আত্মসংযম প্রদর্শন এবং ‘অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির স্বার্থে উত্তেজনা কমানোর’ পক্ষে। তবে তিনি ইরাকে হামলার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। ইরাকের কাতাইব হিজবুল্লাহর এক মুখপাত্রও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি।

এর আগে গত মঙ্গলবার রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের ভেতরে হামলা চালায়। সৌদি ভূখণ্ডে হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এ আঘাত হানা হয়। এটিই প্রথমবার, যখন রিয়াদ সরাসরি ইরানের মাটিতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা যায়। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-ও ইরানে অনুরূপ হামলা চালিয়েছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন জানিয়েছেন।

সব সূত্রই বলছে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া শত শত ড্রোনের উৎস ছিল ইরাক।

যুদ্ধ চলাকালে মিলিশিয়াসংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোয় বারবার দাবি করা হয় যে সৌদি আরব ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

ইরাককে ‘দ্বিতীয় ফ্রন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করে টানা হামলা চলতে থাকায় সৌদি আরব ও কুয়েত মিলিশিয়াগুলোর প্রতি ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। এসব গোষ্ঠীর অধীনে রয়েছে হাজার হাজার যোদ্ধা এবং বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার।

যুদ্ধ চলাকালে সীমান্তপারের হামলার প্রতিবাদে কুয়েত তিনবার দেশটিতে নিযুক্ত ইরাকি প্রতিনিধিকে তলব করে। এছাড়া ৭ এপ্রিল বসরা শহরে কুয়েতি কনস্যুলেটে হামলার ঘটনায়ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সৌদি আরবও ১২ এপ্রিল হামলার প্রতিবাদে ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।

দুই ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও এক সরকারী নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতে, মার্চে সৌদি আরব ও কুয়েত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাগদাদকে সতর্ক করেছিল যেন তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর রকেট ও ড্রোন হামলা বন্ধ করে।

ইরাকি বাহিনী জানিয়েছে, তারা কিছু হামলা প্রতিহতও করেছে। এর মধ্যে বসরার পশ্চিমে একটি রকেট লঞ্চার জব্দ করা হয়, যেটি সৌদি জ্বালানি তেল স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।

তবে চারজন ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজনের মতে, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা এখনো কুয়েত ও সৌদি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নজরদারি ড্রোন ব্যবহার করছে। তারা তথ্য সংগ্রহ করে তা ইরানকে সরবরাহ করছে।

আরও