ঝড় ‘গোরেত্তি’র কবলে উত্তর ইউরোপ: তুষারপাত ও ঝড়ে বিপর্যস্ত ফ্রান্স ও জার্মানি

উত্তর জার্মানিতে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। কিছু কিছু এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী শীতকালীন ঝড় ‘গোরেত্তি’র (জার্মানিতে যার নাম এলি) প্রভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ফ্রান্স ও জার্মানি। ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগের রেকর্ড গতির বাতাস এবং ভারী তুষারপাতে থমকে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে স্কুল, ব্যাহত হচ্ছে রেল ও সড়ক যোগাযোগ। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা নরম্যান্ডি ও ব্রিটানি। গত রাতে গাতেভিল ও ভাল-দে-সেয়ার এলাকায় বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড করা হয়েছে ঘণ্টায় ২১৩ থেকে ২১৬ কিলোমিটার। এমনকি প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের চূড়ায় ১৪৮ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে গেছে।

ঝড়ের প্রভাবে ফ্রান্সে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশজুড়ে ৩০টিরও বেশি অঞ্চলে তীব্র তুষার ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর মেটিও-ফ্রান্স। বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জার্মানিতে এ ঝড়ের প্রভাব আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর জার্মানিতে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। কিছু কিছু এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হামবুর্গ ও শ্লেসউইগ-হোলস্টাইন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি তুষারপাত হচ্ছে। তুষারঝড়ের কারণে উত্তর জার্মানির দীর্ঘপাল্লার ট্রেন চলাচল স্থগিত করেছে। হামবুর্গে রাস্তা পরিষ্কার করতে ৭০০-এর বেশি স্যানিটেশন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বরফের কারণে অনেক রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গাড়িচালকদের ট্যাঙ্কে পর্যাপ্ত তেল এবং গাড়িতে কম্বল ও খাবার রাখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বার্লিন এবং ব্র্যান্ডেনবার্গ অঞ্চলে শুরুতে বড় বিপদের আশঙ্কা করা হলেও আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সেখানে পরিস্থিতি খুব বেশি ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনা এখন কম। তবে কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ জার্মানিতে 'ফ্রিজিং রেইন' বা বরফ বৃষ্টির সতর্কতা বহাল রয়েছে।

আরও