নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিলেন নেতানিয়াহু

ট্রাম্পের জন্য গাজা যুদ্ধের অবসান কেবল একটি কূটনৈতিক সাফল্য নয়। বরং এটি তার দীর্ঘদিনের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বাসনা ও মধ্যপ্রাচ্যে ‘চূড়ান্ত শান্তি’ আনার প্রচেষ্টার অংশ। তবে এ শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গাজায় চলমান ২১ মাসের সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য নেতানিয়াহুর সম্মতি আদায়।

হোয়াইট হাউসের নৈশ ভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষ উপহার দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নৈশভোজ শুরুর আগে তার হাতে ছিল একটি চিঠি। যাতে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। খবর বিবিসি।

টেবিলের উপর দিয়ে চিঠিটি তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ট্রাম্প একের পর এক দেশে, একের পর এক অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করছেন। এই মনোনয়নটি তার পুরোপুরি প্রাপ্য। এই পুরস্কার ট্রাম্পের পাওয়া উচিত।’

চিঠিটি হাতে নিয়ে ট্রাম্প আবেগাপ্লুতভাবে বলেন, ‘বাহ! এটা আমি জানতাম না। বিশেষ করে আপনার কাছ থেকে পাওয়া, এটি আমার কাছে অনেক অর্থবহ।’ ট্রাম্পের কাছে এই পুরস্কার এখন আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তার দাবি, বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসনে বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ বন্ধে তার প্রচেষ্টা পুরস্কার পাওয়ার যথেষ্ট যোগ্যতা তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের জন্য গাজা যুদ্ধের অবসান কেবল একটি কূটনৈতিক সাফল্য নয়। বরং এটি তার দীর্ঘদিনের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বাসনা ও মধ্যপ্রাচ্যে ‘চূড়ান্ত শান্তি’ আনার প্রচেষ্টার অংশ। তবে এ শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গাজায় চলমান ২১ মাসের সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য নেতানিয়াহুর সম্মতি আদায়।

এই লক্ষ্য অর্জনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো, ইরানের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধকে সমর্থন দেয়া, এমনকি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধের হওয়া দুর্নীতির মামলাও বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে গাজা যুদ্ধ বন্ধে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ দিচ্ছেন তিনি। নেতানিয়াহু কখনো কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ালে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। এখন ট্রাম্প চান, হামাস ও নেতানিয়াহু এমন একটি চুক্তিতে সম্মত হোন, যার ভিত্তিতে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হবে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় স্থবির থাকার পর গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি চুক্তির পথে গতি ফিরে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধিরা কাতারে বসে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির খসড়া চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। এতে পর্যায়ক্রমে জিম্মি মুক্তি ও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবাহের সুযোগ রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্র দূত স্টিভ উইটকফ এই সপ্তাহেই আলোচনায় যোগ দেবেন—যা অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই চুক্তি ট্রাম্পের বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনার অন্যতম ধাপ, এর মাধ্যমে সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত করতে চান ট্রাম্প। সৌদি আরব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধ চলাকালীন তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।

সোমবার নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমরা ইসরায়েল ও গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে এক বিস্তৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি।’ তবে গাজা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সেখানে কাদের শাসন থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ইসরায়েল বলছে, হামাস সেখানে শাসন করতে পারবে না। কিন্তু ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এখনো অস্পষ্ট, যদিও উপসাগরীয় দেশগুলোর আর্থিক সহায়তা পেতে তাদের অংশগ্রহণ জরুরি।

এদিকে, ট্রাম্পের ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’ গড়ে তোলার বিতর্কিত প্রস্তাব আবার আলোচনায় এসেছে। এই প্রস্তাবে গাজার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে এলাকাটিকে বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের প্রস্তাব করেছেন ট্রাম্প। সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ট্রাম্প সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, এটি নেতানিয়াহুরই উত্তর দেয়ার বিষয়।

নেতানিয়াহু বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি চমৎকার দৃষ্টিভঙ্গি আছে — এটি হলো ‘স্বাধীন ইচ্ছা’। যদি কেউ থাকতে চায়, থাকতে পারে; আর যদি কেউ যেতে চায়, তাহলে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। এটা যেন কোনো কারাগার না হয়।

আরও