ইরানের মার্কিন হামলার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

ইরানের প্রতি সংহতি আর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, তুরস্ক, পাকিস্তান, জর্ডানসহ আরো অনেক দেশে।

ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রতিবাদে গতকাল রোববার বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রতিবাদে গতকাল তেহরানের রাস্তায় নেমে আসে হাজারো মানুষ। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখানে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজাদি স্কয়ার, ফার্দৌসি স্কয়ার, ইমাম হোমেইনি মসজিদের সামনে ও পার্লামেন্ট ভবনের সামনে ছিল প্রধান বিক্ষোভস্থল। রাজধানী ছাড়াও দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক, বোস্টন, শিকাগো, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলসের মতো বড় শহরগুলোতেও। সেখানে এ কর্মসূচিকে ‘জরুরি সমাবেশ’ বলে বর্ণনা করেছেন আয়োজকরা।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নেয়, কোনোটিতে কয়েক ডজন মানুষ দেখা গেছে। একাধিক স্থানে বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা যায় ইরানের পতাকা। কারো কারো হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার, যেখানে লেখা ছিল ‘ইরানে যুদ্ধ নয়!’

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের ফটকের বাইরে অন্তত ২০০ জন বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হামলার নিন্দা জানান। লস অ্যাঞ্জেলেসে ২৬ বছর বয়সী নার্স নুর আবদেল-হাক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই তিনি এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য গাজা বা ওয়েস্ট ব্যাংকে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না; আরো হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলুক।’

ইউএস টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে. যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ঘোষণা দেন, ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই লন্ডনে ইরানি দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখানে ইরানের পক্ষে ও বিপক্ষের লোকজন উপস্থিত হন। জমায়েতের ওপর পুলিশ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে আট ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফ্রান্সের প্যারিসে ইরানে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিবাদ জানান। এছাড়াও বিক্ষোভ হয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান, জর্ডানসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশে।

আরও