নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে এখন পর্যন্ত ৯৫৫ জনের এবং চীনের তিব্বতে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুদেশ মিলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বুধবারের বন্যা ও ভূমিধসে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার দেশটির নুয়াকোট জেলার একটি বাড়ি থেকেই একসঙ্গে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যার পানিতে বাড়িটি ভেসে যাওয়ার পর সেখানে এসব মরদেহ আটকা পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যা ও ভূমিধসে ১৬ জন নিহত এবং ৫৪০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ঘন কাদা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েকটি টানেলে এখনো ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাশুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি টানেলে এখনো উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দুর্ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও সুরঙ্গে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের আশা এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন তাদের স্বজন ও উদ্ধারকারী কর্মীরা। চীন ও নেপালের সামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক দল সেখানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। এ দলে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন। প্রকল্প এলাকাগুলো থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিখোঁজ প্রকৌশলী ৩৩ বছর বয়সী অরুস ভান্ডারির জন্য অপেক্ষা করছেন অনুশিলা ভান্ডারি। বিবিসিকে তিনি বলেন, আমি চাই আমরা তাকে খুঁজে পাই। আমি চাই সে বাড়ি ফিরুক। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, স্বজনদের সেই আশা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত এক শ্রমিকের স্ত্রী সিতা পান্ডে নেপালের দৈনিক কান্টিপুরকে বলেন, আমি এখনো আশা করছি সে বেঁচে আছে। কারণ সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল নেপাল। দেশটির পাহাড়ি নদীগুলোকে ঘিরে কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় নির্মাণাধীন ও সম্পন্ন অন্তত ১১টি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গতকাল সোমবার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে যাওয়া সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় উদ্ধারকারী দল। সেখানে শ্রমিকদের আটকে পড়ার ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সেখানে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে দলটি।