ট্রাম্পের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পরিবেশে বড় কাটছাঁট

প্রতিরক্ষা বহির্ভূত খাতে ১৬ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এমনকি ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস ও এক্সপ্লোসিভের ব্যয়েও কাঁটছাঁট করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বাজেটে বড় আকারে কাটছাঁটের মুখে পড়ছে শিক্ষা, বৈদেশিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য ও জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ মে) কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটের জন্য প্রস্তাবনা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। খবর সিএনএন।

বাজেট প্রস্তাবে দেখা গেছে, প্রতিরক্ষা বহির্ভূত খাতে ১৬ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এমনকি ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস ও এক্সপ্লোসিভের ব্যয়েও কাঁটছাঁট করার পক্ষে মত দিয়েছে তারা। আগামী বাজেটে ২২ দশমিক ছয় শতাংশ ব্যয় কমানো হবে বলে বাজেট প্রস্তাবনায় জানানো হয়েছে।

সামাজিক কর্মসূচিগুলোর খরচ কমিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন পেন্টাগনের জন্য ১৩ শতাংশ অতিরিক্ত বরাদ্দের পক্ষে রয়েছে। যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এ বাজেট পরিকল্পনা সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ভেতরের সামাজিক সুরক্ষার খাতগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে। ডেমোক্র্যাট ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এরই মধ্যে এই বাজেটকে ‘অসাম্য বৃদ্ধিকারী’ ও ‘গরিব-বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা শুরু করেছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এটি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসঙ্গত বাজেট পরিকল্পনা।’ হোয়াইট হাউজের পরিচালক রুসেল ভট বলেন, ‘নতুন বাজেটের প্রস্তাবনার মূল উদ্দেশ্য অপচয় কমানো। আমলাতন্ত্রের ব্যয় কমানো।’ কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য প্রস্তাবিত এ বাজেটকে ‘স্কিনি বাজেট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

তবে বিরোধীরা বলছে, এতে দেশের শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। ডেমোক্র্যাট ও অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির সহ-সভাপতি সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, ‘এ বাজেট পরিকল্পনা আমাদের দেশকে কয়েক দশক পেছনে নিয়ে যাবে, যা পরিবারগুলোর জীবনমান, জনগণের নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনী এবং জীবনরক্ষাকারী গবেষণায় নেতৃস্থানীয় অবস্থানকে হুমকির মুখে ফেলবে।’

আরও