সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহার না করতে সব এয়ারলাইনস সংস্থার প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথিরা। খবর বিবিসি।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করার বিষয়ে হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব বিমানবন্দর ও আকাশসীমা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু এবং হুথি বাহিনীর অভিযানের ক্ষেত্র হতে পারে। তবে মক্কা ও মদিনা এ হুঁশিয়ারির আওতামুক্ত বলে জানিয়েছেন ইয়াহিয়া সারি।
উত্তর ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীটি সবাইকে এ হুঁশিয়ারি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে গতকাল সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জনের বেশি। এ ঘটনাকে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনার জেরে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ)।
চলতি গ্রীষ্মে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির শুরু করা অভিযানে এক সপ্তাহে এটি বিমানবন্দরে তৃতীয় হামলা।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশী এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা দেয়া হয়নি। সৌদি আরবের হুমকি সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও কোনো সংকেত দেয়নি। চলতি সপ্তাহে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগের দুটি হামলায় চারজন নিহত হন। এছাড়া বিমানবন্দরের রানওয়েতে পার্ক করে রাখা সৌদি আরবের একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রাণঘাতী এসব হামলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। ইয়েমেনের সরকারকে হুথিদের বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে সহায়তা করতে সৌদি আরবও তাদের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান চালাচ্ছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলার জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছে।