ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'সম্পূর্ণ সফল' হওয়ার দাবির পক্ষে নতুন গোয়েন্দা তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রসাশন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানান, নতুন গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্পের বক্তব্যকে নিশ্চিত করেছে। তিনি আরো বলেন, মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। যদি ইরান এগুলো পুনঃস্থাপন করতে চায়, তবে নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহান — এই তিনটি স্থাপনাই নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। এতে তাদের কয়েক বছর সময় লেগে যাবে।
এ বিষয়ে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, একটি ঐতিহাসিকভাবে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং সেগুলো পুনর্গঠনে বহু বছর সময় লাগবে।
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে মঞ্চ ছেড়ে দেন ট্রাম্প। এ সময় গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করে পিট হেগসেথ দাবি করেন, ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সাংবাদিকরা ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা মূল্যায়নটিকে ব্যবহার করছেন।
এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, কংগ্রেসের সঙ্গে গোপন নথি ভাগাভাগি সীমিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তথ্য ও বার্তার এই বিপরীতধর্মী প্রবাহ রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্কে তা বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
ইরানে মার্কিন হামলার বিষয়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমাদের আক্রমণে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি মিডিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ এনে বলেছিলেন, ভুয়া সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।
পরে পেন্টাগনের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এক ফাঁস হওয়া প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলেছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রধান উপাদানগুলো এখনো অক্ষত আছে এবং হামলার ফলে তাদের কার্যক্রম সর্বোচ্চ কয়েক মাস পিছিয়েছে।