রেকর্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ

স্পেন ও ইংল্যান্ড উভয়ই তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস পার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া সংস্থাগুলো। পাশাপাশি তুরস্ক, পর্তুগাল ও ইতালিতে ভয়াবহ দাবানল ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে নাকাল ইউরোপের দেশগুলো। স্পেন ও ইংল্যান্ড উভয়ই তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস পার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া সংস্থাগুলো। পাশাপাশি তুরস্ক, পর্তুগাল ও ইতালিতে ভয়াবহ দাবানল ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। খবর বিবিসি।

স্পেনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা অ্যামেট জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশটির স্বাভাবিক জুলাই ও আগস্ট মাসের গড়কেও ছাড়িয়ে গেছে। এরই মধ্যে জুলাই মাসের শুরুতেই আইবেরিয়ান উপদ্বীপের একাধিক এলাকায় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বার্সেলোনা ও সেভিয়ায় রাতের তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ২৭ ডিগ্রি ও ২৮ ডিগ্রি। যা ঘুমানোর অনুপযুক্ত বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ইংল্যান্ডে জুন মাসের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা জুন মাসের জন্য নতুন রেকর্ড। পুরো যুক্তরাজ্যে জুনের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা রেকর্ডে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সবচেয়ে গরম ছিল ২০২৩ সালের জুন, সেসময় তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পর্তুগালের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা জুন মাসের জন্য সর্বোচ্চ দৈনিক। যদিও পুরো মাসের গড় এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবুও এটা দেশটির গ্রীষ্মকালীন চরম আবহাওয়ারই ইঙ্গিত।

এরইমধ্যে ইতালিতে তাপজনিত কারণে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানা গেছে। মিলান, রোমসহ ১৭ শহরে তাপপ্রবাহের ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দিনের সবচেয়ে উষ্ণ ঘণ্টাগুলোতে খোলা জায়গায় কাজকর্মে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তীব্র গরমের ফলে তুরস্কে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শুধু ইজমির প্রদেশ থেকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫০,০০০ জন মানুষ। বিলেসিক, হাতায়, সাকারিয়া ও মানিসা প্রদেশেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্কের বনমন্ত্রী ইব্রাহিম ইউমাকলি জানিয়েছেন, গত তিন দিনে ২৬৩টি দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে জরুরি দলগুলো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হেলিকপ্টার, বিমান ও হাজারো দমকল বাহিনীর সদস্য মাঠে নেমেছেন।

আরও