কম্বোডিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত বর্ধিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার কথা নিশ্চিত করেছে থাইল্যান্ডের সরকার। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। থাই সরকার জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনকে তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করবে। খবর রয়টার্স।
থাই সামরিক বাহিনীর হেফাজতে থাকা কম্বোডিয়ার ১৮ জন যুদ্ধবন্দীকে মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত রাখা হবে— সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাত্থাফন নার্ফানিট। তবে সীমান্তে সেনা পুনর্মোতায়েন করা হবে কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।
জুলাই মাসে পাঁচ দিন ধরে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশ। এর মধ্যে সোমবার ভূমি মাইন বিস্ফোরণে চারজন থাই সৈন্য আহত হওয়ার পর উত্তেজনা আবার বেড়েছে।
থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, বর্ধিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পদক্ষেপগুলোয় সম্মত হওয়ার পরেও কম্বোডিয়া নতুন করে ভূমি মাইন স্থাপন করেছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন করে ভূমি মাইন স্থাপনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
বর্ধিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের সময় স্বাক্ষরিত হয়েছিল। জুলাই মাসে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি চুক্তির ভিত্তিতে তৈরি হয় এটি। ট্রাম্প তখন দুই দেশের নেতাদের যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়ে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি না হলে তাদের নিজ নিজ বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করা হবে।
দেশ দুটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক এ লড়াইয়ে রকেট ও ভারী গোলাগুলিতে অন্তত ৪৮ জন নিহত এবং আনুমানিক ৩ লাখ মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হন। উভয় পক্ষই সংঘাত শুরুর জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকিও বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্থগিতের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের চেয়ার মালয়েশিয়াকে জানানো হবে। তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়া যা বলেছে তা যথেষ্ট নয়। এখন থেকে কম্বোডিয়ার অবস্থান কী হয়, সেটাই আমাদের দেখতে হবে।‘