দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা সিজেপির

৯ আপডেট
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬

    বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, দাবি ধ্রুব রাঠির

    ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভকে সহিংস করে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বিজেপির কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির। তিনি বলেন, ‘আমি অহিংসা ও গান্ধীতে বিশ্বাস করি। আর এ মানুষগুলো গডসেতে বিশ্বাস করে।’ রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রাঠি। খবর দ্য প্রিন্ট।

    সংবাদ সম্মেলনে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলেও মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ধ্রুব রাঠি। তার অভিযোগ, দেশটির নির্বাচন কমিশন, আদালত ও পুলিশসহ সব প্রতিষ্ঠান ‘দুজনের’ নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

    এর আগে গত শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে গুরগাঁওয়ের বাসা থেকে আটক হয়েছিলেন রাঠি। মুক্তি পেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এর আগে তিনি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিব্বলের সঙ্গে দেখা করেন এবং আটক হওয়ার ঘটনাকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন।

  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬

    মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে গিয়ে আটক সমাজকর্মী অঞ্জলি দামানিয়া

    ভারতের মুম্বাইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে আটক হয়েছেন সমাজকর্মী অঞ্জলি দামানিয়া। রোববার শহরের দাদার এলাকার শিবাজি পার্কে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা আরো কয়েক ডজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

    পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, শিবাজি পার্কের কাছে পৌঁছালে অঞ্জলি দামানিয়াকে আটক করা হয়। পরে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

    অঞ্জলি দামানিয়া পিটিআইকে বলেন, ‘সিজেপির সমর্থনে শিবাজি পার্কে পৌঁছানোর পর সাদাপোশাকের পুলিশ সদস্যরা আমাকে আটক করেন। সব পুলিশ সদস্যই সাদাপোশাকে ছিলেন। তারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, তা আমি জানি না।’

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিবাজি পার্কের আশপাশ থেকে আটক হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগকে শিবাজি পার্ক থানায় নেওয়া হয়েছে। অন্য কয়েকজনকে কাছাকাছি এলাকার বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়েছে।

  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬

    আমরা আবার রাস্তায় নামব, প্রতিবাদ না করার মুচলেকা দিইনি: অভিজিৎ দীপকে

    দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক পুলিশি অভিযানের পর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন দলটির প্রধান অভিজিৎ দীপকেসহ শীর্ষ নেতারা। ছাড়া পাওয়ার পরপরই আজ রোববার অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, প্রতিবাদ না করার মুচলেকায় তার স্বাক্ষর করেননি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা ফের রাজপথে নামবেন।

    গতকাল শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আগেই বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছিল সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে। এরপর আজ সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাদের হাজির করা হয়।

    সিজেপির আইনি বিষয়ক প্রধান রত্না সিং জানান, আগামী এক বছর ‘শান্তি বজায় রাখার’ মুচলেকায় তাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে কোনো প্রকার আন্দোলন বা প্রতিবাদ না করার মুচলেকা দেয়ার খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো নতিস্বীকার করিনি, সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আমরা আবারও রাজপথে নামব।’

    এদিকে আজ রোববার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, আটকের ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে রাখে। কোনো ধরনের আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া ফোন জব্দ করার ফলে তাতে ভুয়া তথ্য ও আলামত বসিয়ে দেয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

    অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাসহ শিক্ষার্থীদের ওপর চলা দমনপীড়ন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সংগঠনটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে আইসা দাবি করেছে, আন্দোলনকারীদের বহনকারী বাসগুলোকে খাঁচার মতো তালাবদ্ধ করা হয়েছিল, যেখানে ছিল না বাতাস চলাচলের ন্যূনতম ব্যবস্থা। এ ছাড়া আটক বিক্ষোভকারীদের গোপনাঙ্গে আঘাত, শারীরিক নির্যাতন এবং নারী ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অশালীন ও জাতিগত গালিগালাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে।

  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও দিল্লিতে ধরপাকড়, সাংবাদিকসহ আটক ১০০

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে রোববারও (১১ অক্টোবর) ব্যাপক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক না করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও পুলিশি ধরপাকড় অব্যাহত ছিল। এদিন সাংবাদিকসহ বহু মানুষকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত বিক্ষোভকারীও ছিলেন। তাদের কারও কারও শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার বাইরে, কনট প্লেস (রাজীব চক) ও আর কে আশ্রম মার্গ এলাকায় সাংবাদিকদের আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতীয় দৈনিকের একজন সাংবাদিক, কয়েকটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কর্মী ও ক্যামেরাপারসন ছিলেন। শুধু প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার বাইরে থেকেই ৭০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়।

    রাজীব চকে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া একটি বাসে অন্তত দুজন সাংবাদিক ও অন্তত দুজন আহত বিক্ষোভকারী ছিলেন। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল, কারও কারও শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারীকে দুটি বাসে তুলে এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। এদিন একটি বার্গারের দোকান থেকেও এক ব্যক্তিকে বিক্ষোভকারী সন্দেহে টেনে বের করে পুলিশ। ঘটনার একটি ভিডিওতে তাকে পুলিশকে বলতে শোনা যায়, তিনি সেখানে শুধু দাঁড়িয়ে ছিলেন, কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি। তিনি পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬

    ‘লড়াই মাত্র শুরু’—দেশজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা ককরোচদের

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ব্যাপক ধরপাকড়ের শিকার হওয়ার পর দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির নেতারা বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা ভারতের সংবিধানস্বীকৃত অধিকার।

    রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লির একটি আদালত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘লড়াই সবে শুরু হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এ প্রতিবাদ থামবে না। দলের নেতা সৌরভ দাস জানান, আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সারা দেশেই ছড়িয়ে দেয়া হবে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিরও সমালোচনা করেন।

    এর আগে গতকাল শনিবার যন্তর মন্তরের কাছে সমাবেশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবির কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় ভারতীয় পুলিশ। সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে মুম্বাই থেকে আসা একটি বিমান দিল্লিতে অবতরণের পর সেটির ভেতর থেকেই আটক করা হয়। পরে তাদের হেফাজতে নেয়া হয়। রোববার দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এক বছরের জন্য শান্তিভঙ্গ না করার শর্তে তাঁদের মুক্তি দেন।

  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬

    বিক্ষোভকারীদের আটক গণতন্ত্রের জন্য অপমানজনক: কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী

    দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযান এবং সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের আটকের সমালোচনা করে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেন, দেশে গণতন্ত্র চলছে নাকি জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তার জবাব দিতে হবে।’ বিমানবন্দর থেকে তুলে নেয়া বিক্ষোভের নেতাদের আটকের ঘটনাকে ভারতের জন্য বড় ধরনের ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সাংবাদিকদের শিবকুমার বলেন, ‘গণতন্ত্রে মানুষের বিক্ষোভ করার এবং নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কেউ তাদের কণ্ঠরোধ করতে পারে না। কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য নেতার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া এবং তাদের উদ্বেগের জবাব দেয়া।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনজীবনে যারা নেতৃত্ব দেন, তাদের সমালোচনা মোকাবেলা করার মানসিকতা থাকতে হবে এবং ভুল হলে তা মেনে নিতে হবে। এ ঘটনাকে তিনি ‘কাপুরুষতা’ বলেও আখ্যা দেন।

    শনিবার সিজেপির ডাকা বিক্ষোভে কংগ্রেসের অংশ না নেয়া প্রসঙ্গে শিবকুমার বলেন, দলটি নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মসূচি পালন করবে। বিক্ষোভের আয়োজকেরা কংগ্রেসের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের (সিজেপি) থামাতে চাই না। ইন্ডিয়া জোটের কয়েকটি শরিক দল এতে অংশ নিয়েছে, এটি তাদের অধিকার। আমরা আগামীকাল নিজেদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করব।’

  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬

    নয়াদিল্লির বিক্ষোভে ২০ মামলা, গ্রেফতার ৪

    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেস কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ২০টি এফআইআর (মামলা) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। রোববার বার্তা সংস্থা পিটিআইকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

    এসব মামলায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া কমলা মার্কেট থানায় শিক্ষার্থীদের মারধর ও নারী বিক্ষোভকারীদের হেনস্তার অভিযোগে একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ঘটনায় কট্টর ডানপন্থি সংগঠন হিন্দু রক্ষা দলের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬

    দিল্লির আন্দোলন থেকে আবারও আটক নেহা বোরা

    ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবারও আটক হয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এইসা) সভাপতি নেহা বোরা। বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় দিল্লির আর কে আশ্রম এলাকায় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছিলেন নেহা বোরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি সম্প্রচারে তিনি জানান, ব্যারিকেড পেরিয়ে তারা দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় পৌঁছেছেন। এর পরই তাকে আটক করা হয়।

    এর আগে, গত ১০ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন নেহা বোরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, পুলিশ তার ফোন নিয়ে গিয়েছিল। পরে সেটি ফেরত পান তিনি। একই সঙ্গে ময়দান গড়ি থানায় আটক নারীদেরও মুক্তি দেওয়া হয় বলে পোস্টে জানানো হয়েছিল।

  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য লজ্জা’: দিপকে

    দিল্লি পুলিশের হাতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ছাড়া পেয়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদির কড়া সমালোচনা করে দিপকে লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য একটি লজ্জা। এর আগে এই দেশ কখনও এত বড় ভীরু ও উৎপীড়ক শাসক দেখেনি’। দিল্লি পুলিশ তাকে মুক্তি দেয়ার পর তিনি এ বার্তা দেন।

    এর আগে ভারতের দিল্লিতে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য শনিবার সকালে দিল্লিতে একটি ফ্লাইট অবতরণের পর তাদের আটক করা হয়েছিল।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বেআইনিভাবে আটক না করতে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে দিল্লিতে স্বাভাবিক মেট্রো ও ইন্টারনেট পরিষেবা নিশ্চিত করা এবং মানুষের চলাচলে অপ্রয়োজনীয় বাধা না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে একদিনের ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন থেকে সরে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়, মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও চলাচলে বিধিনিষেধের পর রোববার এ বিষয়ে জরুরি শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ। শুনানিতে আদালত বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হওয়া কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক সূচি অনুযায়ী চালু রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকা সাপেক্ষে ইন্টারনেট পরিষেবাও সচল রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়। আইনজীবী ও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা না দিতেও বলা হয়েছে।

আগের দিনের বিধিনিষেধ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে বলেছেন আদালত। একই সঙ্গে মেট্রো ও রেল পরিষেবা বন্ধের মাধ্যমে আদালতের আগের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে করা আদালত অবমাননার আবেদনে কেন্দ্রকে নোটিস দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হেবিয়াস করপাস আবেদনসহ বিষয়গুলো আগামী ১৩ অক্টোবর আবার শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।

এর মধ্যেই রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনে (এসআইআর) কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লিজুড়ে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সিজেপি নেতা আজিঙ্কা সিন্ধে বলেন, যত মানুষকেই আটক করা হোক, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না। যন্তর মন্তরে নিয়মিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। সিজেপির দাবি, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেয়া বা পরিবর্তনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও অসহযোগ কর্মসূচি চলবে।

শনিবারের বিক্ষোভের আগে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক করে পুলিশ। রোববার তাদের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর এক বছর ‘শান্তিভঙ্গ না করার’ শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়। মুক্তির পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন দীপকে।

আরও