১৪০ কোটির বেশি মানুষের বিশাল বাজার ও দ্রুত বাড়তে থাকা ভোক্তা ব্যয়কে লক্ষ্য করে চীনে ব্যবসা বাড়াতে প্রতিযোগিতায় নামে বিশ্বের বড় সব মার্কিন কোম্পানি।
কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বলছে, সে চিত্র এখন বদলে গেছে। নাইকি, স্টারবাকস ও জেনারেল মোটরসের মতো বড় মার্কিন ব্র্যান্ড চীনের বাজারে আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না। স্থানীয় ব্র্যান্ডের উত্থান, ভোক্তার চাহিদার পরিবর্তন ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ব্যবসায় চাপ তৈরি করেছে।
বেইন অ্যান্ড কোম্পানির গ্লোবাল রিটেইল প্র্যাকটিসের প্রধান অ্যারন চেরিসের মতে, মার্কিন কোম্পানিগুলো চীনের বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে যথেষ্ট দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারেনি। চীনে বিদেশী পণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে মানের পার্থক্য অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় নয়। অন্যদিকে চীনা ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত নতুন পণ্য বাজারে আনছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে বিতরণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী।
নাইকির বাজার সংকুচিত
চীনের বাজারে মার্কিন ব্র্যান্ডগুলোর পতনের বড় উদাহরণ নাইকি। ২০২১ সালের তুলনায় দেশটিতে কোম্পানিটির ব্যবসা ৩০ শতাংশ সংকোচন হয়েছে। চলতি বছরের বসন্তে চীনে নাইকির বার্ষিক আয় আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। চীনা ক্রেতাদের একটি বড় অংশ এখন স্থানীয় স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাপারচার চায়নার প্রতিষ্ঠাতা ইয়ালিং জিয়াংয়ের মতে, চীনের বাজারে নাইকি অনেকটাই প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। গত এক দশকে চীনের স্পোর্টসওয়্যার বাজার দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও সে সুযোগের পুরোটা নিতে পারেনি নাইকি।
স্টারবাকসের সামনে লাকিনের চ্যালেঞ্জ
চীনে একই ধরনের চাপের মুখে পড়েছে স্টারবাকস। ১৯৯৯ সালে দেশটিতে প্রবেশের পর দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ করে কফি চেইনটি। ২০১৫ সালের মধ্যে চীন হয়ে ওঠে স্টারবাকসের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। কিন্তু কভিড-১৯ মহামারীর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। চীনা ক্রেতাদের একটি অংশ কম দামের স্থানীয় কফি ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে লাকিন কফি। বর্তমানে চীনে লাকিনের দোকানের সংখ্যা স্টারবাকসের তুলনায় তিন গুণ।
—সিএনবিসি অবলম্বনে