যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে প্রায় তিন মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধে প্রস্তাবিত চুক্তির শর্ত আরো কঠোর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে সংশোধিত প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত না হলে কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। খবর আলজাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্যানুযায়ী, পারমাণবিক কর্মসূচি ও উপকরণের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে কয়েকটি শর্ত যুক্ত করতে চান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের জবাব পেতে অন্তত তিনদিন লাগতে পারে। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার আশা রয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, প্রতিপক্ষের প্রতিশ্রুতির ওপর তেহরানের আস্থা নেই। দৃশ্যমান ফল পাওয়া গেলে তবেই ইরান নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরান আক্রমণের মাধ্যমে এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তবে শেষ কবে হবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বৈঠকেও ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদদের মতে, আলোচনায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।
ট্রাম্পের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী শনিবার আবারো হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের কথা তুলে ধরে। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম না মানলে বিদেশী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ।