গত মে মাসের শেষ দিক থেকে গাজায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করে জিএইচএফ। তবে এসব বিতরণকেন্দ্র ঘিরেই শুরু হয় সহিংসতা। একাধিক সূত্রের দাবি, সংস্থার কর্মীদের পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীও ত্রাণ নিতে আসা মানুষজনের ওপর গুলি চালিয়েছে। এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জিএইচএফের কিছু মার্কিন ভাড়াটে কর্মী বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি ও স্ট্যান গ্রেনেড ছুড়েছেন। সেখানে অস্ত্রে সজ্জিত কর্মীরা যা খুশি তাই করছেন।’
জিএইচএফ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, এপির প্রতিবেদন ভিত্তিহীন এবং সংস্থাটি তাদের কার্যক্রমের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য জানাতে গিয়ে আলজাজিরার স্থানীয় সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, ‘এই মানুষগুলো শুধু একটু খাবারের আশায় ত্রাণকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেই তাদের ওপর হামলা হয়েছে।’ তিনি জানান, অবরুদ্ধ গাজায় পরিবারগুলো খাবারের জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছে। অনেক মা নিজের না খেয়ে সন্তানকে খাওয়াচ্ছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যে জিএইচএফের বিতরণকেন্দ্রে আহত ফিলিস্তিনি মজিদ আবু লাবান বলেন, ‘আমার সন্তানেরা টানা তিন দিন না খেয়ে ছিল। তাই বাধ্য হয়ে ত্রাণ নিতে গিয়েছিলাম।’
তবে এসব বিতর্কের মধ্যেও চলেছে গাজায় ইসরায়েলি হামলা। রোববার ভোরে গাজাজুড়ে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন ২৭ জন ফিলিস্তিনি। গাজার উত্তরাঞ্চলের শেখ রাদওয়ানে একটি বাড়িতে বোমা হামলায় ১২ জন নিহত হন, যারা সবাই বাড়িটিতে আশ্রিত বাস্তুহারা ফিলিস্তিনি ছিলেন। দক্ষিণের খান ইউনিসে একটি তাঁবুতে ড্রোন হামলায় নিহত হন আরো দুজন। এর আগে শনিবার এক দিনে অন্তত ৭৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।
এদিকে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য ইসরায়েল প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে কাতারে। তবে আলোচনা চললেও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি।