টাইফুন বুয়ালয়ের আঘাতে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩০-এ পৌঁছেছে। প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় বিপর্যস্ত হাজারো মানুষ। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ভিয়েতনাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ১৯ জন নিহত হয়েছেন, নিখোঁজ আছেন আরো ২১ জন। সোমবার দেশটির উত্তর-মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানে টাইফুনটি। প্রবল জলোচ্ছ্বাস, দমকা হাওয়া ও টানা বর্ষণে এটি চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার আরো বৃষ্টি হওয়ায় দেশটির উত্তরাঞ্চলে নতুন করে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
ফিলিপাইনে বুয়ালয়ের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ছোট দ্বীপপ্রদেশ বিলিরান, যেখানে ১০ জন নিহত হন। প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, স্কুল ও সেতু ধসে পড়ে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি পানি সরবরাহ ও সড়ক পরিষ্কার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
থাইল্যান্ডে জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ সংস্থা জানিয়েছে, ১৭টি প্রদেশে বন্যা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল আয়ুথায়া প্রদেশে চারজন মারা গেছেন। ঐতিহাসিক মন্দির ও প্রত্নস্থল রক্ষায় চাও প্রাইয়া ও পা সাক নদীর তীরে ইস্পাত প্লেট ও বাঁধ বসিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভিয়েতনামের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কিছু এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী হ্যানয়সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের রেড রিভারের তীরবর্তী অঞ্চল থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিয়েতনামের জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, টাইফুন বুয়ালয় বর্তমানে লাওসের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে এটি দুর্বল হয়ে ট্রপিক্যাল ডিপ্রেশনে রূপ নিয়েছে। বুয়ালয়ের আগে গত সপ্তাহে ফিলিপাইনে টাইফুন রাগাসা আঘাত হানে। এ ঝড়েও প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ায় ক্রান্তীয় ঝড়গুলো আরো শক্তিশালী ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। উষ্ণ সমুদ্র এসব ঝড়কে বাড়তি জ্বালানি জোগায়, ফলে প্রবল বৃষ্টি, তীব্র বাতাস ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কবলে পড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।