ইরান-ইসরায়েল সংঘাত

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই উত্তেজনা নিরসনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা

প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন শি জিনপিং

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পঞ্চম দিন গতকালও দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে এদিন সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের নানা প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পঞ্চম দিন গতকালও দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে এদিন সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের নানা প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। দুই পক্ষ সংঘাতে জড়ানোর পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘চীন শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’ অন্যদিকে সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিয়মিত এক ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যস্থতা করার আগ্রহের কথা জানান। এছাড়া ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আর জি৭ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার পথ খোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক অগ্রগতি।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল) সঙ্গে বৈঠক করছেন। হোয়াইট হাউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হাউজের ওয়েস্ট উইংয়ের বাইরে একজন মেরিন সেনা একাকী দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা ইঙ্গিত করে যে প্রেসিডেন্ট বর্তমানে ভেতরে রয়েছেন। তবে এ বৈঠক সম্পর্কে বিশদ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত ১২টা ৪০ মিনিটে বিবিসি এ খবর জানায়।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ঠিক কোথায় আছেন তা আমরা জানি। তিনি খুবই সহজ টার্গেট, তবে এই মুহূর্তে নিরাপদ। আমরা তাকে এখনই হত্যা করব না। তবে সাধারণ নাগরিক ও আমেরিকান সৈন্যদের ওপর কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেখতে চাই না।’

একটি অন্য পোস্টে ট্রাম্প ইংরেজ বড় অক্ষরে লেখেন, ‘আনকন্ডিশনাল সারেন্ডার!’ অর্থাৎ ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ!’। ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পিছু হটার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের করা আগের মন্তব্যের ধারাবাহিকতা এই পোস্ট। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর ঘোষণা না দিলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা এখন ইরানের আকাশ পুরোপুরি এবং সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি।’ ট্রাম্পের এ বক্তব্যে ‘আমরা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের কাছে আকাশ নজরদারির ভালো প্রযুক্তি ও প্রচুর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ছিল, কিন্তু সেগুলো আমেরিকান তৈরি সরঞ্জামের সঙ্গে তুলনীয় নয়। ভালোভাবে কেউ কিছু করলে সেটা করে আমেরিকা—পুরনো দিনের সেই আমেরিকা।’

এদিকে ইসরায়েল-ইরান সংঘাত নিয়ে গতকাল প্রথমবারের মতো কথা বলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। চীন অন্য কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে।’ চীনা প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘সামরিক সংঘাত কোনো সমস্যার সমাধান নয়। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত স্বার্থে নয়।’

কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন। সব পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব এ সংঘাত প্রশমনে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শি জিনপিং বলেন, ‘চীন শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’ উল্লেখ্য, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র চীন।

অন্যদিকে সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহের কথা জানিয়েছে রাশিয়া। আল জাজিরার খবর বলা হয়, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত বন্ধে প্রয়োজনে রাশিয়া মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।’

তবে পেসকভ বলেন, ‘বর্তমানে আমরা অন্তত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মধ্যস্থতা গ্রহণ বা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে যাওয়ার আগ্রহ দেখছি না।’

ইরান রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও রাশিয়া বহু বছর ধরেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। ইসরায়েলকে দূরে ঠেলে না দেয়ার কৌশল অবলম্বন করছে মস্কো।

মস্কোর স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের সহকারী অধ্যাপক নিকোলাই সুরকভ আল জাজিরাকে বলেন, ‘রাশিয়া একটি অত্যন্ত জটিল ভারসাম্যের খেলা খেলছে। দেশটি আন্তরিকভাবেই একটা রাজনৈতিক সমাধান চায়।’

যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার মধ্যেই গতকাল যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। জি৭ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে মাখোঁ বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার পথ খোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক অগ্রগতি। এখন দেখা যাক, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এতে সাড়া দেয় কিনা।’ অবশ্য এখনই এ পরিস্থিতির বড় পরিবর্তনের আশাও করছেন না মাখোঁ। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় এবং ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে, তাহলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা অবশ্যই আছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, তিনি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ‘যুদ্ধবিরতির চেয়ে ভালো’ কিছু চান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। চলমান সংঘাত বন্ধে ইরানকে ‘একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর’ করার শর্ত দিয়েছেন ট্রাম্প। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাদের যে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, মূলত সেই চুক্তির কথাই বলেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘তারা জানে, কীভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। তারা যদি কথা বলতে চায়, তাহলে আলোচনার টেবিলে থাকা চুক্তিটি তাদের গ্রহণ করা উচিত, যা অনেক প্রাণ রক্ষা করবে।’

এদিকে শুরু থেকেই পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান নাকচ করে আসছে ইরান। দুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত একটি পারমাণবিক আলোচনা বাতিলও হয়েছে। তারা বলছে, এ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানাতে হবে। ফলে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে চারদিক থেকেই।

অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমেরিকান কর্মকর্তাদের পাঠাতে পারেন। তার মধ্যে কানাডার আলবার্টায় চলমান জি৭ সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ট্রাম্প। তার এই আচমকা সিদ্ধান্তের পেছনে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে ট্রাম্প পরে জানিয়েছেন, গতকাল পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির আলোচনার জন্য ইরানের সঙ্গে তার পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বিবিসি বলছে, তিনি ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ প্রত্যাশা করছেন। সামরিক সংঘাত চলমান থাকলেও ট্রাম্প এখনো ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি করার লক্ষ্য রাখছেন।

এদিকে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে সংঘাত আরো না বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন বলে খবর এসেছে। তারা ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (এনটিপি) ত্যাগ না করার এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখারও অনুরোধ জানান। তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় ফিরবে না তেহরান।

এদিকে গতকাল ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তরে হামলার খবর দিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গতকাল সন্ধ্যায় ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে একযোগে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে (আইআরজিসি) উদ্ধৃত করে তাসনিম জানায়, ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে আক্রান্ত মোসাদ। সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স ফাইটাররা একটি কার্যকর অভিযানে সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্রে আঘাত করেছে।’ তাসনিমের প্রকাশ করা এ-সংক্রান্ত ছবিগুলোয় দেখা যায়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তরে আগুন জ্বলছে। অবশ্য মোসাদ কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের দিক থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি। বিবিসি জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট স্থাপনা নিয়ে খবর প্রকাশের বিষয়ে দেশটিতে কড়া বিধিনিষেধ থাকায় সেখানকার গণমাধ্যমও স্বাধীনভাবে খবর প্রচার করতে পারে না। মোসাদ কার্যালয়ে হামলার খবরের পর পরই তেহরানের কেন্দ্রস্থলসহ বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর দিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম। এসব খবর অনুযায়ী, আন্দারযগৌ এলাকায় ইসরায়েলের গোলা আঘাত হেনেছে।

এর আগে গতকাল ইসরায়েলে দুই দফায় ৫০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান, যার বেশির ভাগ প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে বিবিসিসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানায়, গতকাল ইসরায়েলের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং এর মধ্যে কমপক্ষে একটি দেশটির কেন্দ্রে আঘাত করেছে।

এদিকে আলী শাদমানি নামে ইরানের আরো এক সিনিয়র সামরিক কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের হামলায় গোলামালি রাশিদ নিহত হওয়ার পর শাদমানি দেশটির সামরিক সদর দপ্তরের দায়িত্ব নেন। এ দপ্তরই দেশটির এলিট ফোর্স রেভল্যুশনারি গার্ড ও নিয়মিত সেনাবাহিনীর যৌথ সামরিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করে থাকে। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমে গতকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো খবর প্রকাশ হয়নি।

এদিকে সোমবার ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) প্রধান কার্যালয় ভবনে (রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন) ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন। ওই হামলার ফলে আইআরআইবির সম্প্রচার প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। একই দিন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তেহরানের কেন্দ্রস্থলের একটি এলাকা থেকে তিন লাখের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতা জারি করেছে। তাদের দাবি, ওই এলাকায় সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হবে—এ ধরনের বার্তা গাজায় হামলার আগে ইসরায়েলের নিয়মিত কৌশল হলেও তেহরানের বেলায় তা নজিরবিহীন।

হুমকি অগ্রাহ্য করে মঙ্গলবার ইসরায়েলের দিকে নতুন ধরনের আরো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা আজই প্রথম এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছেন, যা ইসরায়েল প্রতিহত করতে অক্ষম। অল্প কিছু দেশের হাতেই এ ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র আছে বলেও দাবি করেছেন তারা।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে যে তারা ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোয় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির চরম ক্ষতি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব স্থাপনায় আরো হামলা চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানান নেতানিয়াহু।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রসি বিবিসিকে বলেছেন, ‘ইসরায়েলি হামলায় নাতাঞ্জ প্লান্টে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, সম্ভবত ১৫ হাজার সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরানের ফোর্দো প্লান্ট অক্ষত রয়েছে।’

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পঞ্চম দিনে ইরানে ২৫০ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে তেহরানের কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, এর বেশির ভাগই বেসামরিক। আর ইসরায়েল বলেছে যে ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

আরও