মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনুদান কমিয়ে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতায়। প্রশাসনের এমন অবস্থান দেশটির উচ্চশিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টদের চিন্তিত করে তুলেছে। মার্কিন গবেষকরাও এখন নিজ দেশের পরিবর্তে বিদেশী অর্থায়ন ও অনুদানে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াটাকেই শ্রেয় মনে করছেন। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গবেষণা অনুদান নিয়ে তাদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। খবর এফটি।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইইউর গবেষণা ও উদ্ভাবন সংক্রান্ত অনুদান কর্মসূচিতে করা আবেদনের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একটি তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা আবেদনের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় তিনগুণে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিকভাবে যা ঘটছে, তা ইতিবাচক কিছু নয় বলে মনে করছেন ইইউর গবেষণা কমিশনার একাতেরিনা জাহারিয়েভা। এ বিষয়ে এফটিকে তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে যা ঘটছে, তা ইতিবাচক নয়। আমরা বিজ্ঞানীদের দুরবস্থায় আনন্দিত নই। কিন্তু আমরা চাই তারা যেন তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।’
ইউরোপিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল (ইআরসি) এবং ডক্টরাল ও পোস্টডক্টরাল গবেষণায় অর্থায়নের জন্য গড়ে তোলা মারি স্ক্লোডভস্কা-কুরি অ্যাকশনস (এমএসসিএ) কর্মসূচিতে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদনের সংখ্যা সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
একাতেরিনা জাহারিয়েভা বলেন, ‘এখানে প্রতিযোগিতাটা অর্থ নিয়ে নয়, প্রতিভা নিয়ে। সবাই মেধাবী মানুষদের টানতে চায়।’
তার ভাষ্যমতে, ইউরোপে গবেষকদের বাড়তি আগ্রহ ‘চুজ ইউরোপ’ কৌশলের অংশ, যা উদ্ভাবননির্ভর কোম্পানিগুলোকে ইউরোপীয় ব্লকের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণে উৎসাহিত করতে চালু করা হয়েছে।
তিনি এ সপ্তাহেই স্কেলআপ ইউরোপ ফান্ড গঠনের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম, সেমিকন্ডাক্টর ও বায়োটেকের মতো কৌশলগত খাতে ইউরোপীয় কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবে। প্রাথমিক বাজেট হিসেবে ধরা হয়েছে ২.৫ বিলিয়ন ইউরো, যা পরবর্তীতে ৫ বিলিয়নে উন্নীত হবে।
চলতি বছরেই ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বিলিয়ন ডলারের পরিমাণ ফেডারেল গবেষণা তহবিল বাতিল করেছে। সরকারের সামগ্রিক বাজেট ছাঁটাইয়ের অংশ হিসেবে ‘নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বিবেচনায় বৈচিত্র্যায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোয় অনুদান বন্ধ করা হয়েছে।’
হার্ভার্ডসহ শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে প্রশাসন তহবিল স্থগিত রেখেছে, যাতে তারা তাদের প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার করে এবং ক্যাম্পাসে “মতাদর্শগত বৈচিত্র্য” বাড়ায়। এর ফলে বহু অধ্যাপক ও শিক্ষার্থী বিদেশে বিকল্প সুযোগ খুঁজছেন।
তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন পাওয়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত বিদেশি তহবিলের উৎস ও মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে কঠোর শর্ত দেয়া হয়েছে।