তরুণ প্রজন্মের টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করেছেন মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী লুভাসান্নামস্রাইন ওয়ুন-এরদেন। দুর্নীতি-বিরোধী বিক্ষোভের মুখে সোমবার পার্লামেন্টের অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পদত্যাগ করেন তিনি।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হয়েছিলেন ওয়ুন-এরদেন। মঙ্গলবার (৩ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে। প্রতিবাদের সূচনা হয় একটি ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ২৩ বছর বয়সী ছেলেকে হেলিকপ্টারে তার প্রেমিকাকে নিয়ে বাগদানের ছুটিতে যান। সঙ্গে ছিল দামি গাড়ি, ডায়র ব্র্যান্ডের ব্যাগ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের নানা চিত্র। সরকারি বেতনে একজন নেতার ছেলের এই সম্পদ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে। ২৮ বছর বয়সী আন্দোলনকর্মী আমিনা বলেন, ‘এটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মুখে স্পষ্ট চপেটাঘাত’।
জনগণের ক্ষোভ আরো বাড়িয়ে তুলেছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ ও রাজধানী উলানবাটরের চরম বায়ুদূষণ। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, মানুষ এখন মাসিক বেতনের অর্ধেকই কর হিসেবে দিচ্ছে, আর বাকি দিয়ে খাবার, ভাড়া বা বিদ্যুৎ বিল চালাতে পারছে না। অধিকাংশই এখন কিস্তিতে বেঁচে আছে।
ভিডিও ঘিরে অস্থিরতা দেখা দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ওয়াইউন-এরদেন নিজেও তার পুত্রকে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার তদন্তে সোপর্দ করেন। তার দল মঙ্গোলিয়ান পিপলস পার্টি (এমপিপি) সংসদের ১২৬টি আসনের মধ্যে ৬৮টি দখলে রেখেছে। তবে জোটের অন্যতম শরিক ডেমোক্রেটিক পার্টি এরইমধ্যে আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সরকার থেকে বেরিয়ে গেছে।
মঙ্গোলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি একটি প্রধান রাজনৈতিক সমস্যা। ২০২২ সালে কয়লা রফতানিকে ঘিরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল। ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পর থেকে মঙ্গোলিয়া একটি সংসদীয় গণতন্ত্র, কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘকাল ধরেই চলমান। মঙ্গোলিয়াকে চীন ও রাশিয়ার মাঝখানে গণতন্ত্রের এক ‘ওয়েসিস’ হিসেবে দেখা হয়। ইউক্রেনের যুদ্ধের মাঝেও গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন মঙ্গোলিয়া সফর করেন—যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে মঙ্গোলিয়াকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।