আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে মার্কিন হেপাটাইটিস বি টিকার গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ে নবজাতকের হেপাটাইটিস বি টিকাদান নিয়ে ১৬ লাখ ডলারের একটি গবেষণা প্রকল্প চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ে নবজাতকের হেপাটাইটিস বি টিকাদান নিয়ে ১৬ লাখ ডলারের একটি গবেষণা প্রকল্প চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা এটিকে ‘খুবই অনৈতিক’ এবং ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

গবেষণাটি ২০২৬ সালের প্রথম দিকে শুরু হবে। প্রকল্পটি পরিচালিত হবে ডেনমার্কের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ব্যান্ডিম হেলথ প্রজেক্টের মাধ্যমে। গবেষণাটির নেতৃত্বে থাকবেন পিটার আয়বি ও ক্রিস্টিন স্টাবেল বেন। এ গবেষণায় কিছু নবজাতককে জন্মের সময় হেপাটাইটিস বি টিকা দেয়া হবে, আর কিছু নবজাতককে তা দেয়া হবে না। এরপর তাদের শারীরিক সুস্থতা, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক উন্নয়নের ওপর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এরই মধ্যে নবজাতকদের হেপাটাইটিস বি টিকাদানকে নিরাপদ ও কার্যকরী বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি ভবিষ্যতে ক্যান্সার বা লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। গিনি-বিসাউয়ে প্রায় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত। নবজাতকরা যদি আক্রান্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সার হওয়ার।

যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক পল অফিট বলেন, ‘নবজাতকের মধ্যে কিছু শিশুকে টিকা দেয়া এবং অন্যদের বাদ দেয়া অত্যন্ত অনৈতিক। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত টিকা পৌঁছে দেয়া, গবেষণার জন্য নয়।’

ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল হেলথ বিশেষজ্ঞ গ্যাভিন ইয়ামি বলেন, ‘এ ধরনের গবেষণা ঔপনিবেশিক মনোভাবের প্রতিফলন, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান নিয়ে আস্থা কমাতে পারে।’

সিদ্ধান্তটি সিডিসি হেপাটাইটিস বি টিকাদানের নতুন নীতির পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। সে অনুযায়ী জন্মের সময় টিকাদান ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বিবেচিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র দীর্ঘদিনের ভ্যাকসিনবিরোধী হিসেবে পরিচিত। সমালোচকরা মনে করছেন, এ নীতি বৈশ্বিক টিকা কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং টিকাবিষয়ক জোট গাভির মতো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের জন্য মার্কিন অর্থ সহায়তা হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

গবেষণার পদ্ধতিতেও উদ্বেগ রয়েছে। এটি সিঙ্গেল-ব্লাইন্ডেড, অর্থাৎ শুধু গবেষকরা জানবেন কোন শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। এতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে পক্ষপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণার মূল প্রশ্নও স্পষ্ট নয়, কারণ টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এরই মধ্যে প্রমাণিত। ‘সাধারণ স্বাস্থ্য প্রভাব’ পরিমাপের লক্ষ্যও অস্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশে এ ধরনের বিতর্কিত গবেষণা চালানোর পরিবর্তে নবজাতকদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করা উচিত, যাতে প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষা দেয়া যায়।

আরও