যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ভালুক

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে এবারের শীতকাল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক। এতে বনের গাছপালা, ফলমূল, বাদাম ও ঘাসের উৎপাদন কমে গেছে। এগুলো সাধারণত ভালুকের খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ জোগান দেয়। ফলে খাবারের সংকটে কৃষ্ণ ভালুক বা ব্ল্যাক বেয়ার এবং গ্রিজলি ভালুক মানুষের বসতিতে ঢুকে পড়ছে। ভালুকের ঘ্রাণশক্তি খুবই তীব্র। তাই লোকালয়ে থাকা আবর্জনা, পোষা প্রাণীর ও পাখির খাবার সহজেই তাদেরকে মানব বসতিতে টেনে আনছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে খাবারের সন্ধানে রেকর্ডসংখ্যক ভালুক লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। তীব্র খরার কারণে বনে ভালুকের স্বাভাবিক খাবার গাছপালা, ঘাস, বেরি ও বাদামের সরবরাহ কমে গেছে। তাই খাবারের খোঁজে তারা এখন ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও জনবহুল এলাকায় ঢুকে পড়ছে। এতে মানুষ ও ভালুকের সংঘাত বাড়ছে। সংঘাতের কারণে অনেক ভালুককে মেরেও ফেলতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। খবর রয়টার্স।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে এবারের শীতকাল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক। এতে বনের গাছপালা, ফলমূল, বাদাম ও ঘাসের উৎপাদন কমে গেছে। এগুলো সাধারণত ভালুকের খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ জোগান দেয়। ফলে খাবারের সংকটে কৃষ্ণ ভালুক বা ব্ল্যাক বেয়ার এবং গ্রিজলি ভালুক মানুষের বসতিতে ঢুকে পড়ছে। ভালুকের ঘ্রাণশক্তি খুবই তীব্র। তাই লোকালয়ে থাকা আবর্জনা, পোষা প্রাণীর ও পাখির খাবার সহজেই তাদেরকে মানব বসতিতে টেনে আনছে।

কলোরাডোর গ্র্যানবি শহরে সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। ম্যাট এরিকো নামের এক বাসিন্দা বাড়ির ভেতর দুটি ছোট ভালুক দেখতে পান। তিনি শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখেন, ভালুক দুটি তার ঘরের করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর তারা সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে একই এলাকায় একটি ভেপের দোকানেও ভালুকের দেখা মেলে। এ ছাড়া স্থানীয় ভেপ শপ, নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে এলাকার স্কুল প্রাঙ্গণ এবং ডেনভারের ব্যস্ত কাঁচাবাজারের কাছেও ভালুকের আনাগোনা দেখা গেছে।

বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা জানান, মানুষ ও ভালুকের এ সংঘাতের পেছনে নগরায়ণও একটি বড় কারণ। গত কয়েক দশকে মানুষের বসতি ক্রমেই ভালুকের পুরোনো বিচরণক্ষেত্রের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। একই সময়ে সংরক্ষণ উদ্যোগের কারণে অনেক এলাকায় বেড়েছে ভালুকের সংখ্যাও। ফলে মানুষ ও ভালুকের সামনাসামনি হওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেবল কলোরাডোতেই ১৭ থেকে ২০ হাজার ব্ল্যাক বেয়ার রয়েছে। চলতি বছর সেখানে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি ভালুক দেখার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০১৯ সালের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর রাজ্যটিতে অন্তত ছয়টি ভালুকের আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে।

এ ঘটনাগুলোর কারণে ভালুকের মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। বিভিন্ন রাজ্যের বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেউ গাড়ির ধাক্কায় মারা যাচ্ছে, কেউ গুলিতে নিহত হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা ও বিদ্যুতায়িত হয়েও অনেক ভালুকের মৃত্যু হচ্ছে। আবার বিপজ্জনক হয়ে উঠলে কর্তৃপক্ষও কিছু ভালুককে মেরে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে।

নিউ মেক্সিকোতে চলতি বছর ১৮৭টি ভালুক মেরে ফেলা হয়েছে। ২০১১ সালের পর এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ ছাড়া ৩৫টি পূর্ণবয়স্ক ভালুক ও ১৬টি শাবককে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। উটাহতে এ বছর ৩৯টি ভালুক মেরে ফেলা হয়েছে। এটিও এক বছরের হিসাবে নতুন রেকর্ড।

এ বছর ভালুকের আক্রমণে মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে। নিউ মেক্সিকোতে গত ২৫ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম প্রাণঘাতী ভালুকের হামলা। অন্যদিকে, মন্টানায় এ বছর ২৪টি গ্রিজলি ভালুক মারা গেছে। মে মাসে সেখানকার গ্লেসিয়ার ন্যাশনাল পার্কে গ্রিজলি ভালুকের হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতিরোরও কঠিন হতে পারে। খরা দীর্ঘ হলে বনে খাবারের সংকটও দীর্ঘ হবে। এতে ভালুক মানুষের ফেলে দেয়া খাবারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। শীতকাল উষ্ণ হলে তাদের স্বাভাবিক শীতনিদ্রা বা হাইবারনেশন প্রক্রিয়ার ধরনও বদলে যেতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ। তারা ভালুক-নিরোধক ময়লা ফেলার পাত্র ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাইরে দীর্ঘ সময় আবর্জনা না রাখা এবং পোষা প্রাণীর ও পাখির খাবার ঘরের বাইরে না রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

নেভাদার ভালুক বিশেষজ্ঞ হিদার রাইখ বলেন, ‘ভালুক লোকালয়ে ঢোকার খবর দ্রুত জানালে অনেক সময় তাদের না মেরে তাড়িয়ে দেয়া সম্ভব। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। কারণ শীতনিদ্রার আগে এ সময় ভালুকগুলো শরীরে বাড়তি চর্বি জমাতে শুরু করে। ফলে খাবারের সন্ধানে মানুষের বসতিতে তাদের আনাগোনা আরো বাড়তে পারে।’

আরও