ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না, পরিকল্পনাও নেই: ট্রাম্প

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না, ভবিষ্যতেও এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ পুরোপুরি বহাল রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি চালু রয়েছে এবং সমুদ্রে থাকা সব মাইন অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে না এবং নতুন কোনো আলোচনার পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মধ্যবর্তী চুক্তির শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি না মানা পর্যন্ত এ নৌপথটি বন্ধই থাকবে। খবর রয়টার্স।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না, ভবিষ্যতেও এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ পুরোপুরি বহাল রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি চালু রয়েছে এবং সমুদ্রে থাকা সব মাইন অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

ট্রাম্পের এ দাবির বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে দেশটির শীর্ষ প্রতিনিধি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানান, গত জুনে স্বাক্ষরিত মধ্যবর্তী চুক্তির শর্ত মেনে না চলা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

পার্লামেন্টে দেয়া বক্তব্যে গালিবাফ উল্লেখ করেন, এ প্রণালি চালুর পূর্বশর্ত হিসেবে মার্কিন প্রশাসনকে ইরানি বন্দরের ওপর থেকে অবরোধ ও তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে তেহরানের জব্দ করা সব সম্পদ অবমুক্ত করা এবং সামরিক হুমকি ও অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

এর আগে ট্রাম্পের জামাতা ও মার্কিন বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরকারের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালো পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে।

তবে সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, শান্তি আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ট্যাঙ্কার চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গেছে। ফলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, তা আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক অবস্থানও কঠোর হচ্ছে। রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধের স্থায়ী অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ায় তেহরান এখন 'সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক' সামরিক কৌশলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

এদিকে জুনের মধ্যবর্তী চুক্তির মেয়াদ মার্কিন প্রশাসন বাড়াতে চায় কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধুমাত্র 'না' সূচক উত্তর দিয়েছেন।

আরও