ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারে সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো জ্বালানি রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার মধ্যেই এসব হামলা বেড়েছে। খবর রয়টার্স।
মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) গত রোববার এক নোটে জানিয়েছে, প্রণালিতে হামলা, হামলার চেষ্টা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ড্রোন ব্যবহার, নজরদারি ও ভিএইচএফ রেডিওর মাধ্যমে জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে ইরানের আইআরজিসি জড়িত বলে জানিয়েছে জেএমআইসি।
জেএমআইসি বলেছে, ‘এসব কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের উপস্থিতি বজায় রাখা এবং এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখার ইচ্ছারই প্রমাণ দিচ্ছে।’
সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে এমন তিনটি সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির আশপাশে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি বহনকারী ট্যাংকারে অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকার ঘটনাবলি নিয়ে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব হিসাব করেছে সূত্রগুলো।
সূত্রগুলো বলেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক সপ্তাহে এটিই ট্যাংকারে হামলার সর্বোচ্চ সংখ্যা।
জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)-এর আলাদা তথ্যেও একই সপ্তাহে জাহাজ সংশ্লিষ্ট নয়টি ঘটনার কথা উঠে এসেছে।
সমুদ্রপথের নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কোনো ঘটনা যাচাই ও আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করতে জাতিসংঘের সংস্থাটি সাধারণত বেশি সময় নেয়।
আইএমওর আলাদা তথ্যানুযায়ী, তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি সময়ে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছিল ১৩ জুলাই শুরু হওয়া সপ্তাহে। ওই সপ্তাহে আটটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।
এদিকে গত সোমবার প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরের প্রায় অর্ধেক সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি তেল রফতানি যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে ট্যাংকারে হামলা ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে রফতানি বাড়তি মাত্রায় ধরে রাখা যাবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো নিক্ষেপযোগ্য বস্তু পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘অন পিস’-এ আঘাত হানে। এতে ১২ জন ক্রু আহত হয়েছেন।