মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে। ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর এ দেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরই দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি, কুয়েত এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এরপরই তারা নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে।
ফারস নিউজ জানিয়েছে, কাতারের আল উবায়েদ এয়ার বেজ, কুয়েতের আল সালেম এয়ার বেজ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা এয়ার বেজ ও বাহারাইনের মার্কিন পঞ্চম নৌবহর বেজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয় ইরান। দেশটির উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ও ইসরায়েলি সম্পদ ও স্বার্থ ইরানের জন্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি আরো বলেন, ইসরায়েল কী আসতে চলেছে তার জন্য প্রস্তুতি নিক। আমাদের জবাব হবে প্রকাশ্য এবং এতে কোনো রেড লাইন বা সীমারেখা থাকবে না। এ আগ্রাসনের পর সবকিছুই সম্ভব, এমনকি এমন সব দৃশ্যপটও তৈরি হতে পারে যা আগে কখনো ভাবা হয়নি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে অত্যন্ত জটিল ও বহুমুখী পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
আজ সকালে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ অভিযানের কথা নিশ্চিত করেন। তারা এটিকে 'পূর্ব-নির্ধারিত হামলা' বলে উল্লেখ করেছে। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
হামলার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে হামলা চালাচ্ছে এবং তা এখনো চলমান। এক কর্মকর্তা বলেন, হামলাটি মোটেও ‘ছোট আকারের নয়’।