ইরানে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বারের মতো ভোট দিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ২২০-২০৪ ভোটে একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ পাস হয়। এর মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খবর এপি।
এর আগে নেয়া দুটি উদ্যোগের মতোই মঙ্গলবারের ভোটেও সব ডেমোক্র্যাট যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দেন। তবে এবার তাদের সঙ্গে আরো কয়েকজন রিপাবলিকান যোগ দেন। আগে পাস হওয়া কোনো প্রস্তাবই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও প্রস্তাবটি ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি প্রায় নিশ্চিতভাবেই তাতে ভেটো দেবেন।
ইরাক যুদ্ধে মেরিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং প্রস্তাবটি এগিয়ে নেয়া ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি শেঠ মল্টন বলেন, ‘মনে আছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন এই যুদ্ধ মাত্র কয়েক সপ্তাহ চলবে?’
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের এখন ‘কঠিন প্রশ্ন করা উচিত’, ‘আরেকটি যুদ্ধপ্রবণ প্রশাসনের বশ্যতা স্বীকার’ করা নয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের এটিই সম্ভবত শেষ ভোট। এবারের নির্বাচনের প্রচারে এ যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
চলতি সপ্তাহের শেষে মার্কিন আইনপ্রণেতারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে প্রায় পুরো সময় নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নির্ধারণকারী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি। ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।
ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে ভোটারদের জ্বালানির উচ্চমূল্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
গতকাল কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস জানায়, ১ আগস্ট পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যুদ্ধের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে আরো ২- ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি হতে পারে।
হোয়াইট হাউজে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার সময় ট্রাম্প নিজেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশের যুদ্ধে জড়াবেন না। ইরানে তার সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব এখন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকান পার্টির ওপরও পড়ছে। জুলাইয়ে করা এপি-নরক জরিপে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছিলেন, ইরানে যুদ্ধ করা সার্থক হয়নি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের গতিপথ বদলাতে কংগ্রেস বারবার চেষ্টা করেছে। তবে ট্রাম্প এসব প্রস্তাব ঠেকাতে বা ভেটো দিতে সক্ষম থাকায় তার প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার উদ্যোগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
জুনে প্রতিনিধি পরিষদ প্রথমবার একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ পাস করে। এরপর জুলাইয়ে আরেকটি প্রস্তাব পাস হয়। দুটোর লক্ষ্যই ছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ করা।
সিনেটও দশমবারের চেষ্টায় যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ পাস করেছিল। তবে ট্রাম্প রুদ্ধদ্বার মধ্যাহ্নভোজে সিনেটরদের তীব্র ভর্ৎসনা করার পরদিনই রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান বদলে ফেলেন।
মার্কিন সংবিধান কংগ্রেসকে যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্টকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষমতাও দিয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ প্রেসিডেন্টের এই ক্ষমতার ওপর আরো নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপের চেষ্টা করে। আইনে বলা হয়, ৬০ বা ৯০ দিনের পরও কোনো সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।