যুদ্ধের সময় অলিগার্কদের যেভাবে পক্ষে রেখেছেন পুতিন

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর পুতিন ক্রেমলিনে দেশের শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় তাদের আপত্তি জানানোর সুযোগ ছিল সীমিত। ফোর্বসের অথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে রাশিয়ার বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ১১৭ থেকে কমে ৮৩-তে নেমে আসে। একই সময়ে তাদের মোট সম্পদ কমে যায় ২৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।

ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালেই ইতিহাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে রাশিয়ায় বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা। কিন্তু একই সময়ে দেশটির ধনী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী (অলিগার্ক) রাজনৈতিকভাবে প্রায় নীরব রয়েছেন। গত ২৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ বাস্তবতা নিজের পক্ষে কাজে লাগিয়েছেন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ধনীদের মধ্যে বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়নি। বরং পুতিনের ‘গাজর ও লাঠি’ নীতির কারণে তারা হয়ে উঠেছেন নীরব সমর্থক। খবর বিবিসি।

পুতিনের নীতি কীভাবে কাজ করে, তার একটি উদাহরণ দিয়েছেন সাবেক ব্যাংকার ওলেগ টিনকভ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিচালনাকে ‘পাগলামি’ বলার পরদিনই ক্রেমলিন তার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের জানানো হয়, প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে টিনকভের সঙ্গে সম্পর্ক না ছিন্ন করলে ওই ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত করা হবে।

টিনকভ পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ব্যাংক বিক্রির দামে দরকষাকষির কোনো সুযোগ ছিল না। এক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি ভ্লাদিমির পোটানিন-ঘনিষ্ঠ একটি প্রতিষ্ঠান ব্যাংকটি কিনে নেয়। টিনকভের দাবি, বিক্রয়মূল্য ছিল প্রকৃত মূল্যের মাত্র ৩ শতাংশ। এতে তিনি প্রায় ৯০০ কোটি ডলারের সম্পদ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া ছাড়তে বাধ্য হন।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ছবি: স্পুটনিক

পুতিন ক্ষমতায় আসার আগে রাশিয়ার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর রাষ্ট্রায়ত্ত বড় বড় সম্পদ দখল করে কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত ধনী হয়ে ওঠেন। সে সময় রাজনীতিতেও তাদের প্রভাব ছিল বড়। এ গোষ্ঠীর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন বরিস বেরেজভস্কি। পরে তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচনায় মুখর হন। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, তখনই রাশিয়ায় অলিগার্কদের রাজনৈতিক প্রভাব প্রায় পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর পুতিন ক্রেমলিনে দেশের শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় তাদের আপত্তি জানানোর সুযোগ ছিল সীমিত। ফোর্বসের অথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে রাশিয়ার বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ১১৭ থেকে কমে ৮৩-তে নেমে আসে। একই সময়ে তাদের মোট সম্পদ কমে যায় ২৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।

এর পরের বছরগুলোয় পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। যুদ্ধব্যয় বাড়লেও রাশিয়ার অর্থনীতিতে গতি ফিরতে থাকে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ শতাংশের বেশি। ২০২৪ সালে রাশিয়ার অর্ধেকের বেশি বিলিয়নিয়ার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে লাভবান হন। ফোর্বসের গবেষক জিয়াকোমো টোনিনি বলেন, রাশিয়ায় ব্যবসা চালাতে হলে সরকারের সঙ্গে কোনো না কোনো সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন।

আরও