ভবিষ্যতে পৃথিবীর তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পৃথিবী এখন আগের চেয়ে বেশি তাপ শোষণ করছে। আর শক্তির এ ভারসাম্যহীনতাই জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর বিবিসি।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ তাপ শোষণকারী বিভিন্ন গ্যাসের নির্গমন এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অন্যদিকে, মানুষের তৈরি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে এসব গ্যাসের পরিমাণ গত ২০ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, ১৮৫০ সালের পর গত ১১ বছরকে সবচেয়ে উষ্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
প্রাকৃতিক 'লা নিনা' প্রভাবের কারণে ২০২৫ সালের তাপমাত্রা ২০২৪ সালের চেয়ে কিছুটা কম ছিল। তবুও এটি ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তাপমাত্রার উষ্ণতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
আর অতিরিক্ত উৎপন্ন হওয়া এ তাপের ৯০ শতাংশের বেশি শোষণ করছে মহাসাগর। এতে সমুদ্রের তাপমাত্রাও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, ঝড়ের তীব্রতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায়। একই সঙ্গে বরফ গলার হারও বেড়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সময়ে হিমবাহের গলন ছিল সবচেয়ে বেশি।
ডব্লিউএমও এর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, মানুষের কর্মকাণ্ড প্রকৃতির ভারসাম্য পুরোপুরি ভেঙে দিচ্ছে। এমনকি ডেঙ্গুর মতো রোগের বিস্তারেও ভূমিকা রাখছে। এর ক্ষতিকর প্রভাব শত থেকে হাজার বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব এ সংকট মোকাবেলায় দেশগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানি ছেড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা দেখা গেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।