অস্ট্রেলিয়া নির্বাচন

আলবানিজের নিরঙ্কুশ বিজয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাবনা

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আলবানিজের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে তিনি বাণিজ্যিক শুল্ক ও প্রতিরক্ষা ইস্যুতে আলোচনা করবেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তার লেবার পার্টির নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরো বাড়িয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরো মজবুত করতে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে ব্রিটেন, কানাডা ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতাও জোরদার হবে। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া এই বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঠিক এক সপ্তাহ আগেই কানাডার ক্ষমতাসীন দলও পুনর্নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিল, যার প্রতিধ্বনি দেখা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আলবানিজের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে তিনি বাণিজ্যিক শুল্ক ও প্রতিরক্ষা ইস্যুতে আলোচনা করবেন। এ ছাড়াও এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে পারেন তিনি।

লিবারেল পার্টির সাবেক কৌশলবিদদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন আলবানিজ। বিপরীতে, বিরোধী নেতা পিটার ডাটনকে অনেকেই ট্রাম্পের অনুরূপ বলে দেখেছেন। অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জিম চালমার্স বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার সময়ে জনগণ স্থিতিশীল নেতৃত্বকেই বেছে নিয়েছে।‘

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংসদে শক্তিশালী অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলবানিজের আলোচনায় তার অবস্থানকে আরো মজবুত করবে। লোই ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মাইকেল ফুলিলাভ বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশকে যখন অস্থির মনে হয়, তখন সম্পর্ক বহুমাত্রিক করা যুক্তিযুক্ত।

এখন পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, লেবার পার্টি ১৫০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৮২টি আসনে জয়ী হয়েছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত আর্থার সিনোডিনোস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান মিত্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার থাকা জরুরি।‘

নির্বাচনী প্রচারে আলবানিজ ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে কখনো আক্রমণ করেননি। তবে তিনি তার নীতিগুলোর ‘আমেরিকানাইজেশন’ প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন।

এছাড়া, প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ সত্ত্বেও লেবার পার্টি নির্বাচনী প্রচারে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কারণ, আগামী এক দশকে অতিরিক্ত ৫০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করেছিল আলবানিজ প্রশাসন।

আরও