মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কিছু এলাকা এরইমধ্যে পৃথিবীর চরম উষ্ণ ও শুষ্ক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অদূর ভবিষ্যতে কিছু এলাকা বাস অযোগ্য হয়ে যাবে, কারণ তাপমাত্রা ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (এমইএনই) অঞ্চলে বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসাবে দেখা দেবে পানির দীর্ঘস্থায়ী সংকট, চরম আবহাওয়ার কারণে খাদ্য উৎপাদনে অক্ষমতা। চরম তাপমাত্রার ফল হিসাবে খরা, উষ্ণতাজনিত মৃত্যু ও নানা স্বাস্থ্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করবে।
সাম্প্রতিক গবেষণার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে, কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা। জার্নাল নেচারে বলা হয়, যদি গ্রিন হাউজ গ্যাসের বর্তমান নির্গমন হার অব্যাহত থাকে তাহলে ২১০০ সাল নাগাদ ৬০ কোটি অথবা এই অঞ্চলের ৫০ শতাংশ মানুষ ‘সুপার এক্সট্রিম’ আবহাওয়ার মুখে পড়বে। সপ্তাহজুড়ে কিংবা মাসজুড়েই দুঃসহ তাপ অব্যাহত থাকবে।
গবেষণা জার্নালে বিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের অনুমান অনুসারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চলাকালে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কিছু নগর ও মেগাসিটিতে তাপমাত্রা ৬০ ডিগ্রি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। যা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপর্যয়কর হয়ে উঠবে।
গবেষণার প্রধান লেখক জর্জ জিটিস আল জাজিরাকে বলেন, সমুদ্র অঞ্চলে বেড়ে যাওয়া বাষ্পীভবন থেকে উচ্চ আর্দ্রতা মানুষের বিপদ আরো বাড়িয়ে তুলবে। এই এলাকার কিছু কিছু জায়গায় গ্রীষ্মকালের চরম উষ্ণ মাসগুলোতে বেঁচে থাকা সক্ষমতা চরম সীমায় চলে যাবে অথবা তা অতিক্রম করে যাবে।
বিশেষ করে উপসাগরীয়, আরব ও লোহিত সাগরের তীরবর্তী প্রধান নগর অঞ্চল যেমন দুবাই, আবুধাবি, দোহা ডারহাম ও বন্দর আব্বাসে চরম তাপমাত্রা এগুলোকে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত করেছে।
বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে, নগরগুলোতে বাড়তি তাপ অনুভূত হচ্ছে ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ রাজধানী শহরে বছরের চার মাস চরম গরম থাকছে।
পৃথিবীর মোট পানি সংকটের ৭০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে। জলবায়ুর উষ্ণতা আর্থ-সামাজিক পতনকে ত্বরান্বিত করছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, রেকর্ড সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত ও খরার কারণে ইরাক ও সিরিয়ার ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য, পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে সুপেয় ও চাষাবাদের জন্য পানির অভাব। বর্তমানে সিরিয়া গত ৭০ বছরের মধ্যে ভয়াবহ খরার মুখে রয়েছে। সহায়তা কর্মীরা একে নজিরবিহীন বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেছেন।