১০ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমাদের মধ্যে একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে, না হলে খারাপ কিছু ঘটবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা বিশ্ব ‘সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যে’ জানতে পারবে। ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিবিসি।

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে, না হলে খারাপ কিছু ঘটবে।’

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। একই সময়ে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের মধ্যে বৈঠকে অগ্রগতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

তবে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এবং কিছু রিপাবলিকান সদস্য।

ট্রাম্প আরো জানিয়েছেন, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার (ট্রাম্পের জামাতা) ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো বৈঠক’ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এত বছর ধরে প্রমাণিত হয়েছে, ইরানের সঙ্গে অর্থবহ চুক্তি করা সহজ নয়। তার চুক্তি করতে না পারলে খারাপ কিছু ঘটবে।’

এর আগে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করা ইরানের জন্য খুবই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধান আশা করছেন।

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণার প্রথম দফায় ধারণা করা হয়েছিল, এটি গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের দুই বছরের যুদ্ধ সমাপ্তিতে সহায়তা এবং পুনর্গঠন তদারকির জন্য গঠিত হচ্ছে। কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এর লক্ষ্য যেন শুধু এক সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই। বরং বড় পরিসরে কাজ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে প্রায় দুই ডজন দেশ নিয়ে গঠিত এ বোর্ড কি জাতিসংঘকে পাশ কাটানোর উদ্দেশ্যে তৈরি?

গত জুনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউজ নতুন হামলার বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি আরো জোরদার হয়েছে। অঞ্চলটিতে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েনও রয়েছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো হামলায় সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য সরকার।

আরও