সিরিয়ার গোষ্ঠীগত সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৩০, সেনা হস্তক্ষেপ

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নামের পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৩৭ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার ভোরে জানিয়েছে, সংঘর্ষ থামাতে তাদের বাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। সুইদার গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর নাগরিকদের উদারতা প্রদর্শন ও ‘জাতীয় সংস্কারের আহ্বানে সাড়া দিতে’ অনুরোধ জানিয়েছেন।

দক্ষিণ সিরিয়ার সুইদা শহরে বেদুইন সুন্নি গোত্র ও দ্রুজ ধর্মীয় সংখ্যালঘু যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। খবর বিবিসি।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নামের পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৩৭ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন।

বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ায় বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা বাড়ছে। নতুন ইসলামী নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার ভোরে জানিয়েছে, সংঘর্ষ থামাতে তাদের বাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। সুইদার গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর নাগরিকদের উদারতা প্রদর্শন ও ‘জাতীয় সংস্কারের আহ্বানে সাড়া দিতে’ অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্থানীয় আধ্যাত্মিক নেতারাও শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এপ্রিল ও মে মাসেও নিরাপত্তা বাহিনী ও দ্রুজ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ প্রাণ হারান। দ্রুজ সম্প্রদায় মূলত শিয়া ইসলামের একটি শাখা। সিরিয়ার পাশাপাশি লেবানন, জর্ডান ও ইসরায়েলেও এদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। আসাদের শাসনামলে দ্রুজরা প্রায়ই সরকারের প্রতি নিঃশব্দ আনুগত্য বজায় রেখেছিল, যাতে দীর্ঘ ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে কিছুটা সুরক্ষা পায়।

সম্প্রতি বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দ্রুজ সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, তারা শুধু শারীরিক হামলার আশঙ্কা করছেন না, বরং নতুন সরকারের কাছ থেকে সুরক্ষা না পাওয়ার ভয়ও তাদের তাড়া করছে। গত কয়েক মাসে আলাউইত সম্প্রদায়ের (শিয়া ইসলামের আরেকটি শাখা) শত শত মানুষও নিহত হয়েছেন। দামেস্কের একটি গির্জার ভেতর উপাসনাকারীদের ওপরও হামলা হয়েছে।

এ অবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এ মাসে হায়াত তাহরির আল-শামকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এ ছাড়া সিরিয়ায় ১৪ বছর আগে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর প্রথম কোনো ব্রিটিশ মন্ত্রী হিসেবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি দেশটি সফর করেন।

আরও