ফ্লাইদুবাই দুর্ঘটনা

টিভি দেখার অভিজ্ঞতা থেকে উড়োজাহাজের স্টিয়ারিং টেনে ধরেন ইসরায়েলি যাত্রী

৫০ বছর বয়সী ইয়ানিভ হায়ুনকে ইসরায়েলে নায়ক হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তিনি ও আরো তিন ইসরায়েলি যাত্রী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর সহকারী পাইলটকে কাবু করতে সক্ষম হন। ওই সহকারী পাইলট উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলেন। এরপর হায়ুন উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার স্টিয়ারিং টেনে ওপরে তুলে সেটিকে আবার স্থিতিশীল করতে সহায়তা করেন

তেল আবিবগামী ১৭০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী উড়োজাহাজকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষায় সহায়তা করেছিলেন এক যাত্রী। ওই ইসরায়েলি জানান, টিভিতে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা নিয়ে প্রচারিত অনুষ্ঠান থেকে জেনেছিলেন নিচের দিকে তীব্রভাবে ঝুঁকে পড়া উড়োজাহাজ কীভাবে স্থিতিশীল করতে হয়। খবর রয়টার্স।

৫০ বছর বয়সী ইয়ানিভ হায়ুনকে ইসরায়েলে নায়ক হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তিনি ও আরো তিন ইসরায়েলি যাত্রী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর সহকারী পাইলটকে কাবু করতে সক্ষম হন। ওই সহকারী পাইলট উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলেন। এরপর হায়ুন উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার স্টিয়ারিং টেনে ওপরে তুলে সেটিকে আবার স্থিতিশীল করতে সহায়তা করেন।

উড়োজাহাজে থাকা দ্বিতীয় একটি ক্রু দল পরে সৌদি আরবে নিরাপদে সেটি অবতরণে সহায়তা করে।

স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন হায়ুন, তিনি একটি পয়োনিষ্কাশন পাম্পিং কোম্পানির মালিক।

সৌদি আরব থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর হায়ুন উড়োজাহাজের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, ‘এক নারী “ছুরি মেরেছে” বলে চিৎকার করার পর আমরা বুঝতে পারি হামলা হয়েছে এবং উড়োজাহাজটি কেঁপে ওঠে। সেই মুহূর্তে আমি ককপিটের দিকে দৌড়াই এবং উড়োজাহাজটি নিচের দিকে তীব্রভাবে ঝুঁকে পড়ে।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিমানবন্দরে হায়ুনের সঙ্গে দেখা করেন।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তাদের সাক্ষাতের একটি ভিডিওতে হায়ুনকে বলতে শোনা যায়, ‘একজন (পাইলট) নিচে পড়ে ছিলেন এবং আরেকজন নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। আমার সঙ্গে আরো একজন ভেতরে ঢোকেন। আমি হামলাকারীকে ধরে চোকহোল্ডে নিই এবং তাকে টেনে বের করে আনি।’

হায়ুন জানান, তিনি ও আরো কয়েকজন মিলে সহকারী পাইলটকে কাবু করার পর আবার ককপিটে ফিরে যান। তখন তিনি উড়োজাহাজের চালকবিহীন স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ টেনে ওপরে তোলেন।

আরেক পাইলট নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আগের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি কীভাবে বুঝলেন কী করতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে হায়ুন বলেন, ‘আমি এয়ার ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন দেখি, মিস্টার প্রধানমন্ত্রী।’

সহকারী পাইলটকে ধরে রাখতে সহায়তা করা আরেক ইসরায়েলি যাত্রী ও ব্যাংক নির্বাহী জভিকা মানেস জানান, তারা উড়োজাহাজের ইয়ারফোন ব্যবহার করে তাকে বেঁধে ফেলেছিলেন।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ গতকাল জানান, হায়ুনকে প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর সিভিলিয়ান হিরোয়িজম দেয়ার জন্য মনোনীত করেছেন। একই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন মানেস, তার স্ত্রী তালিও—যিনি ককপিটে সহিংসতার বিষয়টি প্রথম যাত্রীদের জানান। পুরস্কার পাচ্ছেন আহত ক্যাপ্টেনের চিকিৎসা করা ডা. শোতা মুসায়েভ।

মুসায়েভ আরো এক যাত্রী আসাফ রাজুয়ানের সঙ্গে মিলে সহকারী পাইলটকে কাবু করতেও সহায়তা করেন। রাজুয়ানকেও ওই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

আরও