গবেষণার তথ্য

আগাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব সর্বোচ্চ ১২৯ দিন

বর্তমানের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসের সমান নির্ভুলতা তাত্ত্বিকভাবে সর্বোচ্চ ৬২ দিন পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।

আদর্শ পরিস্থিতিতে প্রায় ১২৯ দিন আগের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হতে পারে। বায়ুমণ্ডলে থাকা তথ্য কত দিন পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকে, তা নতুন পদ্ধতিতে হিসাব করে এ সীমা নির্ধারণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে পুরো সময়জুড়ে পূর্বাভাস সমান নির্ভুল হবে না। বর্তমানের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসের সমান নির্ভুলতা তাত্ত্বিকভাবে সর্বোচ্চ ৬২ দিন পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।

গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘অ্যাডভান্সেস ইন অ্যাটমোসফেরিক সায়েন্সেস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি এবং ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) জলবায়ুবিজ্ঞানী ওয়েই ঝাং। তার সঙ্গে ছিলেন এনওএএর সাবেক গবেষক জোলতান টথ।

১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে কম্পিউটার ব্যবহার করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়ার পদ্ধতি চালুর পর থেকেই বিজ্ঞানীরা এর সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। আগের গবেষণাগুলোয় সাধারণত বর্তমান আবহাওয়ার তথ্যের সামান্য ভুল সময়ের সঙ্গে কীভাবে বড় হয়ে ওঠে, তা পরীক্ষা করা হয়েছে। কারণ শুরুর তথ্যের সামান্য পার্থক্যও কয়েক দিন পর পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

তবে ওয়েই ঝাংয়ের মতে, এ পদ্ধতির একটি দুর্বলতা রয়েছে। বর্তমান পূর্বাভাসে থাকা ভুলের চেয়েও ছোট ভুল দীর্ঘ সময়ে কীভাবে পরিবর্তিত হবে, সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষার পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তাই শুধু ভুলের বৃদ্ধি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া কত দিন আগে নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব, তার নিশ্চিত সীমা নির্ধারণ করা কঠিন।

নতুন গবেষণায় পূর্বাভাসের ভুলের পরিবর্তে বায়ুমণ্ডলের শক্তি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা ধরে নেন, কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে বায়ুমণ্ডলের অবস্থা, প্রাকৃতিক নিয়ম এবং ভবিষ্যতের সব বড় বাহ্যিক প্রভাব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য জানা আছে। এমন আদর্শ পরিস্থিতিতেও কত দিন পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব, সেটিই ছিল তাদের প্রশ্ন।

গবেষকদের মতে, সূর্য থেকে অবিরাম পৃথিবীতে আসা আলোককণার একেবারে ক্ষুদ্র বা কোয়ান্টাম পর্যায়ের অবস্থা পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়। সূর্যের শক্তিই বায়ুমণ্ডলের গতিবিধি চালায় এবং একসময় এর প্রভাব বায়ুমণ্ডলের প্রতিটি অণুতে ছড়িয়ে পড়ে। এ অনিশ্চয়তা পুরো বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে গেলে শুরুর অবস্থার তথ্য আর অক্ষুণ্ন থাকে না। তখন ভেতরের পরিবর্তন থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। গবেষকরা এ পর্যায়কে ‘এনার্জি টার্নওভার পয়েন্ট’ বলেছেন।

বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তি, সূর্য থেকে আসা শক্তি এবং এসব পরিমাপের অনিশ্চয়তা হিসাব করে গবেষকরা পূর্বাভাসের সর্বোচ্চ সীমা ১২৯ দিন নির্ধারণ করেছেন। এ হিসাবে সাত দিন কমবেশি হতে পারে।

বর্তমানে কার্যকর আবহাওয়ার পূর্বাভাস সাধারণত প্রায় ১৪ দিন পর্যন্ত দেয়া যায়। গবেষকদের ধারণা, প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উন্নতি হলে এ সময়সীমা আরও বাড়ানো সম্ভব। তবে ১২৯ দিনের শেষ ভাগের পূর্বাভাসে খুব সামান্য ও কম নির্ভরযোগ্য তথ্যই পাওয়া যাবে। গবেষকরা এখন ভিন্ন পদ্ধতিতে হিসাবটি যাচাই করছেন। ফলাফল একই হলে ১২৯ দিনকে আবহাওয়া পূর্বাভাসের চূড়ান্ত তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

আরও