ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুই পক্ষই গতকাল সফর ও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর সিএনএন।
সফর সম্পর্কে অবগত ইসরায়েলি একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে ইরান নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পেয়েছে। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউএই ও ইসরায়েলের সহযোগিতা আরো গভীর হয়েছে।
আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, শেখ মোহাম্মদ ও নেতানিয়াহু রোববার দেশটিতে বৈঠক করেছেন।
ওয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতা ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং তা আরো শক্তিশালী ও উন্নত করার উপায়’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ‘দুই দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আরো জানায়, সফরে নেতানিয়াহুর স্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান, মোসাদের প্রধান, একজন সামরিক সচিব এবং একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন।
আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন। এর ঠিক এক মাস আগে এ বিরল সফর অনুষ্ঠিত হলো। একই সময়ে ইসরায়েলে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। হারেৎস ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুকে হামাসের একটি বড় ধরনের অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন শেখ মোহাম্মদ।
দ্য আটলান্টিকও পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মিসরের গোয়েন্দা প্রধান আব্বাস কামেল ইসরায়েল সফর করে গাজা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। গত রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও জানায়, গাজা নিয়ে ইসরায়েলকে অন্তত তিনবার সতর্ক করেছিল মিসর। এর মধ্যে সর্বশেষ সতর্কবার্তাটি হামলার কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে দেয়া হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় বারবার সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। একইসঙ্গে এসব প্রতিবেদনকে নির্বাচনে তার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তৈরি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা এসব অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহিকে নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত করেছেন।
শেখ মোহাম্মদের সতর্কবার্তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর চলতি মাসের শুরুতে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, সরকারপ্রধানদের মধ্যকার কথোপকথন নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বা জল্পনা নিয়ে তারা মন্তব্য করে না।
তবে ফোনালাপের বিষয়টি তারা অস্বীকার করেনি। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সব গোয়েন্দা তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আদান-প্রদান করা হয়েছে এবং হচ্ছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ইসরায়েলি সূত্র সে সময় জানিয়েছিল, প্রতিবেদনটি অস্বীকার করতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় ইউএই-কে অনুরোধ করেছিল। তবে আমিরাত শুধু গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে একটি বিবৃতি দিতে রাজি হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর সফর নিয়ে গতকাল দেয়া বিবৃতিতে ইসরায়েল বা ইউএই—কোনো পক্ষই ৭ অক্টোবরের হামলার আগে দেয়া কথিত সতর্কবার্তার বিষয়টি উল্লেখ করেনি।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে বর্তমানে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জরিপে থাকা গাদি আইজেনকোট গত শনিবার বলেন, সতর্কবার্তার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসা ‘সন্দেহের আর কোনো সুযোগ রাখে না: নেতানিয়াহু অন্ধত্ব, ঔদ্ধত্য ও দায়িত্বহীনতার সঙ্গে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে গেছেন।’
এর আগে মে মাসে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্চে তিনি গোপনে ইউএই সফর করেছিলেন। ওই সময় এ সফরকে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ বলে অভিহিত করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন তার এই দাবি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে অস্বীকার করেছিল।
যুদ্ধের সময় ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল বলেও জানা গেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নেতানিয়াহু এর আগে কখনো প্রকাশ্যে স্বীকৃত কোনো সরকারি সফরে ইউএই যাননি।