যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা দুই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি আক্রমণে লেবাননে নিহত ছাড়িয়েছে এক হাজারের বেশি।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোয় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করছে বার্তা সংস্থা এপি। বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, ইসরায়েল সীমান্ত পেরিয়ে হাজার হাজার সেনা লেবাননে প্রবেশ করেছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে অন্তত তিন সপ্তাহ ধরে স্থলযুদ্ধ চলছে।
যুদ্ধে ইরানে ১ হাজার ৯০০ জনের বেশি, লেবাননে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হারিয়েছে ১৩ জন সামরিক সদস্য। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থল ও সমুদ্রে বেশ কিছু বেসামরিক মানুষেরও প্রাণহানি ঘটেছে। ইসরায়েলে ১৮, আর লেবাননে আরো ৩ জন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি আক্রমণ শুরুর পর থেকে ইরান ও পরবর্তীতে লেবাননে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ধ্বংস হয়ে হয়েছে হাজার হাজার বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশেরও বেশি। এসব বাস্তুচ্যুতির বেশিরভাগ ঘটনাই অভ্যন্তরীণ।
যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ৮৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৮২টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ৬০০টি স্কুল ও ৬৪ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন। রাজধানী তেহরানেই প্রায় ১৪ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬ হাজার মানুষকে অস্থায়ীভাবে হোটেলে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এ ধ্বংসযজ্ঞের ফলে বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক পরিষেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে, যা মানুষের চলাচল ও আশ্রয় পরিবর্তনের ধরণকে আরো জটিল করে তুলছে।
যুদ্ধের ২৭ দিন পার হলেও ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত পারাপার এখনো সীমিত। আফগানিস্তানে যাওয়া বেশিরভাগ মানুষই সেখানকার বংশোদ্ভূত, যারা নিরাপত্তাহীনতা বা জোরপূর্বক ফেরতের আশঙ্কায় ফিরে গেছেন।
অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল, যা লিতানি নদী থেকে শুরু করে জাহরানি নদীর উত্তরাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা এখন দেশটির প্রায় ১৪ শতাংশ এলাকাজুড়ে কার্যকর হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে লেবাননে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া দেশটি ছেড়ে চলে গেছেন ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের বড় অংশই পাশের সিরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।