হরমুজ প্রণালি বন্ধ, অমান্য করলে কঠোর পরিণতি: আইআরজিসি

যুদ্ধে ইরানে ১ হাজার ৯০০ জনের বেশি, লেবাননে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হারিয়েছে ১৩ জন সামরিক সদস্য। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থল ও সমুদ্রে বেশ কিছু বেসামরিক মানুষেরও প্রাণহানি ঘটেছে। ইসরায়েলে ১৮, আর লেবাননে আরো ৩ জন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন

১৬ আপডেট
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    ইরান–হিজবুল্লাহর হামলায় ২৪ ঘণ্টায় ২৬১ ইসরায়েলি আহত

    ইসরায়েলে হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬১ জন আহত হয়েছেন। ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এসব হামলা চালিয়েছে।

    ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলে ইরানের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১১৬ জন। আর শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান এবং হিজবুল্লাহ হামলায় বিভিন্ন হাসপাতালে ২৬১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

    সূত্র- আল জাজিরা।

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৯২ হাজারেরও বেশি বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত: ইরানি রেড ক্রিসেন্ট

    ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৯২ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৯২ হাজার ৬৬২টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ৭১ হাজার ৩৫৬টি আবাসিক ভবন, ২০ হাজার ৩৯৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ২৯০টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ৬০০টি স্কুল। এ হিসাবের বাইরে রেড ক্রিসেন্টের ১৭টি কেন্দ্র, ৪৬টি অ্যাম্বুলেন্স এবং তিনটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলার স্বচ্ছ তদন্ত চান জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

    দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় 'যত দ্রুত সম্ভব' তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ফলকার টুর্ক।

    মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে আঘাত হেনে থাকতে পারে। তবে তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৬৮ জন নিহত হন।

    জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সংঘাতকালীন শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় টুর্ক বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতের দায়িত্ব বর্তায়।

    জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পৃথকভাবে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ, অমান্য করলে কঠোর পরিণতি: আইআরজিসি

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে এবং এ জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তাকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

    দেশটির সংবাদ সংস্থা ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, আজ (শুক্রবার) সকালে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মিথ্যা দাবির প্রেক্ষিতে তিনটি ভিন্ন দেশের কন্টেইনার জাহাজকে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তার পর ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

    এতে আরো বলা হয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েল শত্রুদের মিত্র বা সমর্থকদের বন্দর থেকে যেকোনো গন্তব্যে যাতায়াতকারী জাহাজের চলাচল এ পথ দিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, চীনের কসকো কোম্পানির দুটি কন্টেইনার জাহাজ জলপথটি পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়। সংস্থাটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে জাহাজ দুটি উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে।

    কেপলারের তথ্য বিশ্লেষক রেবেকা গার্ডেস এক বিবৃতিতে বলেন, সংঘাত শুরুর পর এ প্রথম কোনো বড় জাহাজ কোম্পানি প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করল।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান আলোচনার সদিচ্ছা দেখাতে উপহার হিসেবে ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

    সূত্র- সিবিএস

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    ইরানে আরো তীব্র ও বিস্তৃত হামলা হবে: ইসরায়েল

    ইরানে হামলা আরো জোরদার করার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক কর্মকর্তাদের বলেছেন, ইরানে হামলা আরও জোরদার ও বিস্তৃত হবে। এমন লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত করা হবে যা, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইরানের হামলা পরিচালনায় সহায়ক।

    ইসরায়েল কাৎজ বলেন, তাদের (ইরান) চড়া মূল্য দিতে হবে … এবং যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ইরানে পূর্ণ শক্তি দিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখব।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    ইরানের কোম শহরে আবাসিক এলাকায় হামলা, নিহত ১৮

    ইরানের কোম শহরে গতরাতের হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। আবাসিক এলাকায় এ হামলা চালানো হয়েছে।

    ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং তাসনিম জানিয়েছে, কোম শহরের পার্দিসান এলাকায় ওই হামলা চালানো হয়। প্রথমে ছয়জনের নিহত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরে তা ১৮ জনে পৌঁছায়। একই হামলায় ১০ জন আহত হয়েছেন।

    ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, হতাহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় এ হামলা চালানো হয়েছে।

    সূত্র- আল জাজিরা।

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    মিনাবের স্কুলে হামলা 'যুদ্ধাপরাধ': আব্বাস আরাগচি

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র্রের হামলার শুরুর দিকে মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ওই হামলার পর দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সেখানে ১৬৮ জন মারা গেছেন, যার বেশিরভাগই শিশু।

    জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সংঘাতের মধ্যে শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক এক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে সেই হামলার প্রসঙ্গ তোলেন আরাগচি। তিনি বলেন, ওই হামলা ছিল এ আগ্রাসনের সবচেয়ে ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশগুলোর একটি। এটিকে তিনি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে আখ্যা দেন।

    যুক্তরাষ্ট্র এ হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে এর আগে জানিয়েছিল যে তারা তদন্ত করছে।

    সূত্র- বিবিসি

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যে আরো ১০ হাজার সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে পেন্টাগন। এ বিশাল সংখ্যক সেনা ইরানে দেশটির বিভিন্ন অভিযানের উদ্দেশ্যেই পাঠান হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার তাদের এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে।

    এসব বিষয়ে অবগত দেশটির এক কর্মকর্তার বরাতে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে মধ্যপ্রাচ্যে যাতে আরো সামরিক বিকল্প থাকে সে লক্ষ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পেন্টাগন এ সেনা পাঠানোর অনুমোদন পাওয়ার অর্থ হল, অঞ্চলটিতে আরো সেনা সদস্য ছাড়াও আরো বিস্ফোরক ও সাজোয়া যান প্রবেশ করবে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়া ৫ হাজার মেরিন সেনা ও ৮২ এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের সঙ্গে যোগ দেবে তারা।

    এর আগে ইরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি না মানলে ইরান ‘সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে’ পরিণত হবে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা। তিনি ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কথাও বলেন।

    এদিকে গত বুধবার ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন যদি তাদের ভূখণ্ডে স্থল অভিযান চালায়, তবে তেহরান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সক্রিয় করে লোহিত সাগরের জাহাজে হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেবে।

    ইরান যদি সত্যিই হুতিদের দিয়ে জাহাজে হামলা করায় তাহলে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের এ যুদ্ধে আরেকটি নতুন রণক্ষেত্র তৈরি হবে। এমন পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলছেন, ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, বিবেচনাধীন অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যের ঠিক কোন এলাকায় পাঠানো হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ইরানের মূল ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের আশপাশে থাকবে।

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    ইরান এবং লেবাননে মৃত্যু ক্রমাগত বাড়ছে

    ইরান এবং লেবাননে মৃত্যুসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেয়া হলো

    - ইরান: দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে অন্তত ১ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন।

    - লেবানন: দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

    - ইসরায়েল: ইসরায়েলে ১৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া লেবাননে অন্তত ৩ জন ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছেন।

    - যুক্তরাষ্ট্র: অন্তত ১৩ জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছেন।

    - ইরাক: ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ৮০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

    - অন্য অঞ্চল: অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৪ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ২৫ জন মারা গেছেন।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    জ্বালানি তেলের দাম ফের ১১০ ডলারের ওপরে

    মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় আজ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের ওপরে উঠেছে। বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ-বিঘ্নের ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে বাজার। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল ও এলএনজি প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।

    আজ দুপুরে ব্যারেল প্রতি ব্রেন্ট ফিউচার্স দাঁড়ায় ১১০ ডলার ১২ সেন্ট। অন্যদিকে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ছিল ৯৪ ডলার ৮৫ সেন্ট। দিনভিত্তিক হিসাবে কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় দুই সূচকই অনেক বেশি অবস্থানে রয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালি এখন তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে। এই জলপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

    বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিনের কূটনৈতিক খবরের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাই বাজারে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এদিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বর্তমান সরবরাহ ধাক্কাকে ১৯৭০-এর দশকের সংকট এবং রুশ-ইউক্রেনীয় গ্যাস বিভ্রাটের সম্মিলিত প্রভাবের চেয়েও গুরুতর বলে বর্ণনা করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল কমে গেছে।

    সূত্র: আনাদোলু

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    মার্কিন ঘাঁটির আশপাশের এলাকা ছাড়তে বেসামরিক ব্যক্তিদের আহ্বান আইআরজিসির

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি নতুন আহ্বান জানিয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, যেসব এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, সেসব স্থান যাতে দ্রুত ছেড়ে যান বেসামরিক ব্যক্তিরা।

    আইআরজিসি বলছে, যেখানেই মার্কিন বাহিনীকে পাওয়া, সেখানেই হামলা চালানো আমাদের কর্তব্য।

    তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ বলেছে, ‘আমরা জোর পরামর্শ দিচ্ছি, যেখানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে, সেসব এলাকা অবিলম্বে ত্যাগ করুন, যাতে আপনারা ক্ষতির শিকার না হন।’

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালি খুলতে আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনে চাপ দিচ্ছে ইউএই

    মিত্রদের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে গঠিতব্য বহুজাতিক সামুদ্রিক টাস্ক ফোর্সে অংশ নেবে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি বৃহত্তর জোট গঠনের জন্যও তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটি।

    পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত তিনজনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে এ উদ্যোগে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে আমিরাত। দুটি সূত্র বলছে, আবুধাবি নিজস্ব নৌবাহিনীও মোতায়েন করবে। পদক্ষেপটি ইরানের প্রতি দেশটির কঠোর অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের জবাবে তেহরানের পাল্টা আঘাতের বড় অংশের প্রভাব পড়ছে ইউএইর ওপর।

    একটি সূত্র বলেন, ‘লক্ষ্য হচ্ছে যত বেশি সম্ভব দেশকে নিয়ে একটি বিস্তৃত আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করা। এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বিষয় নয়। ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে, তাই সবাইকে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’

    সম্ভাব্য এ টাস্ক ফোর্সকে আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট দিতে বাহরাইনের সঙ্গে মিলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব আনতেও কাজ করছে আমিরাত। তবে রাশিয়া ও চীন এ উদ্যোগের বিরোধিতা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইরানের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় এ পথে। উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান প্রণালীটির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।

    কিছু উপসাগরীয় দেশ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে এ ধারণা জোরালো হচ্ছে, নৌবাহিনীর এসকর্ট ছাড়া হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা সহজ হবে না।

    হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত বুধবার বলেন, যত দ্রুত সম্ভব জাহাজ যাতে নির্বিঘ্নে প্রণালীটি অতিক্রম করতে পারে এ নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে।

    তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও আধুনিক নৌবাহিনী থাকা আমিরাত ‘হরমুজ সিকিউরিটি ফোর্স’ নামে একটি বাহিনী গঠনের জন্য অনেক দেশকে একত্র করার চেষ্টা করছে। এর লক্ষ্য ইরানের হামলা থেকে প্রণালীকে সুরক্ষা দেয়া, জাহাজগুলোকে নিরাপদে এসকর্ট করা এবং জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ শৃঙ্খলে যে চাপ তৈরি হয়েছে তা কমানো।

    জ্যেষ্ঠ আমিরাতি মন্ত্রী সুলতান আল-জাবের চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইরান হরমুজকে জিম্মি করে রেখেছে। এর খেসারত দিচ্ছে প্রতিটি দেশ—জ্বালানি পাম্পে, বাজারে, এমনকি ওষুধের দোকানেও।’

    এ পর্যন্ত ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রণালীতে জাহাজ এসকর্টে অংশ নিতে অনীহা দেখিয়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার ট্রান্সআটলান্টিক এ জোট ও এর সদস্যদের সমালোচনা করেছেন।

    সূত্রদের মতে, বাহরাইনই একমাত্র অন্য উপসাগরীয় দেশ যা এ পরিকল্পনাকে সমর্থন করছে। আমিরাত এখন সৌদি আরবসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।

    উপসাগরীয় ছয়টি দেশের মধ্যে আমিরাতের এ কঠোর অবস্থান আলাদা করে চোখে পড়ছে। গত সপ্তাহে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা ও কার্যত প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার নিন্দা জানিয়েছিল শুধু আমিরাত ও বাহরাইন। বাহরাইন ঐতিহাসিকভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে থাকে।

    অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোও ইরানের হামলায় ক্ষুব্ধ, বিশেষ করে তারা যখন ট্রাম্পকে যুদ্ধ এড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল এবং প্রকাশ্যে বলেছিল যে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেয়া হবে না। কিন্তু এখনো তারা একক কোনো অভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় পৌঁছাতে পারেনি।

    সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো একদিকে ট্রাম্পকে দিয়ে ইরানের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করতে চায়, অন্যদিকে যুদ্ধের আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্তিও চায়। একই সঙ্গে তারা আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ সরে গেলে আহত ও আরো উগ্র ইরানি শাসনব্যবস্থা রেখে যেতে পারে।

    সূত্র: এফটি

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    ইরানে তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনা এড়াতে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান আইএইএর

    ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) সতর্ক করে বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে হামলা চলতে থাকলে ‘বড় ধরনের তেজস্ক্রিয়তা-সম্পর্কিত দুর্ঘটনা’ ঘটতে পারে।

    ইরানে পারমাণবিক দুর্ঘটনা এড়াতে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গত মঙ্গলবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের বুশেহর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের কাছাকাছি এলাকায় হামলার খবরের পর এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়।

    এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, ‘(মহাপরিচালক) রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি সতর্ক করেছেন, এটি একটি সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেখানে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক উপাদান রয়েছে। ফলে স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইরানসহ এর বাইরে বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় ধরনের তেজস্ক্রিয়তা-সম্পর্কিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

    সূত্র: বিবিসি

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণায় জ্বালানি তেলের দামে পতন

    ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা ১০ দিন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘোষণার প্রভাব পড়েছে পণ্য বাজারে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান দুই মানদণ্ড ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামের পতন হয়েছে।

    অবশ্য শুক্রবারের পতন আগের দিনের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধিকে পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি। কারণ ক্রমবর্ধমান হারে বাজারে এ আশঙ্কা বাড়ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

    বাংলাদেশ সময় আজ সকালে ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ৭ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ১২ সেন্টে নেমে আসে।

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালীতে থাই জাহাজ আক্রান্ত, নিখোঁজ তিন নাবিক

    হরমুজ প্রণালীতে চলতি মাসের শুরুর দিকে অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে থাই পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ময়ুরি নারি। ইরানের তসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির কেশম দ্বীপের উপকূলে গিয়ে আটকে পড়েছে জাহাজটি।

    থাইল্যান্ড জানিয়েছে, জাহাজটির ২০ নাবিককে উদ্ধার করেছে ওমানের নৌবাহিনী। তবে জাহাজটির পেছনের অংশে (স্টার্ন) বিস্ফোরণের পর ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনায় তিন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।

  • ২৭ মার্চ, ২০২৬

    ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় ১০ দিন হামলা ‘স্থগিতের’ ঘোষণা ট্রাম্পের

    ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে এক ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি ‘একপক্ষীয় ও অন্যায্য’।

    গতকাল হোয়াইট হাউজে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে চাপ বাড়ানো হবে। পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখা হবে।

    ইরান বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় নেই তারা। ইরানের কার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে তাও জানাননি ট্রাম্প।

    ২৩ মার্চ ট্রাম্প প্রথমে পাঁচ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের হামলা বন্ধের ঘোষণা দেন, যা এখন বাড়িয়ে ১০ দিনে করা হয়েছে।

    শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জ্বালানি স্থাপনায় ১০ দিনের হামলা বিরতি চায়নি তেহরনা। তবে ট্রাম্প ‘দ্য ফাইভ’ অনুষ্ঠানে বলেন, ইরান নাকি সাত দিনের বিরতি চেয়েছিল।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে পেন্টাগন। একে ট্রাম্পের সামনে সামরিক বিকল্প রাখার ইঙ্গিত বলে দেখছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

    পেন্টাগন আরো নিশ্চিত করেছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে চালকবিহীন ড্রোন স্পিডবোট ব্যবহার করছে। এটাই প্রথমবারের মতো সক্রিয় যুদ্ধে এমন নৌযানের স্বীকৃত ব্যবহার।

    ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি না মানলে ইরান ‘সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে’ পরিণত হবে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা। তিনি ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কথাও বলেন।

    গতকালও একাধিক ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান, যার লক্ষ্য ছিল তেল আবিব, হাইফা ও অন্যান্য এলাকা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবে আঘাত হেনেছে এবং কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমা ছিল, যা ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে ঘরবাড়ি ও গাড়ির ক্ষতি করেছে।

    উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাহারিয়ায় হিজবুলল্লাহ রকেট হামলায় একজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

    অন্যদিকে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর বান্দার আব্বাস, শিরাজের উপকণ্ঠের একটি গ্রাম এবং ইসফাহানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইরান ও লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

    সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা দুই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি আক্রমণে লেবাননে নিহত ছাড়িয়েছে এক হাজারের বেশি।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোয় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করছে বার্তা সংস্থা এপি। বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, ইসরায়েল সীমান্ত পেরিয়ে হাজার হাজার সেনা লেবাননে প্রবেশ করেছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে অন্তত তিন সপ্তাহ ধরে স্থলযুদ্ধ চলছে।

যুদ্ধে ইরানে ১ হাজার ৯০০ জনের বেশি, লেবাননে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হারিয়েছে ১৩ জন সামরিক সদস্য। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থল ও সমুদ্রে বেশ কিছু বেসামরিক মানুষেরও প্রাণহানি ঘটেছে। ইসরায়েলে ১৮, আর লেবাননে আরো ৩ জন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি আক্রমণ শুরুর পর থেকে ইরান ও পরবর্তীতে লেবাননে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ধ্বংস হয়ে হয়েছে হাজার হাজার বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশেরও বেশি। এসব বাস্তুচ্যুতির বেশিরভাগ ঘটনাই অভ্যন্তরীণ।

যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ৮৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৮২টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ৬০০টি স্কুল ও ৬৪ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন। রাজধানী তেহরানেই প্রায় ১৪ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬ হাজার মানুষকে অস্থায়ীভাবে হোটেলে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এ ধ্বংসযজ্ঞের ফলে বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক পরিষেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে, যা মানুষের চলাচল ও আশ্রয় পরিবর্তনের ধরণকে আরো জটিল করে তুলছে।

যুদ্ধের ২৭ দিন পার হলেও ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত পারাপার এখনো সীমিত। আফগানিস্তানে যাওয়া বেশিরভাগ মানুষই সেখানকার বংশোদ্ভূত, যারা নিরাপত্তাহীনতা বা জোরপূর্বক ফেরতের আশঙ্কায় ফিরে গেছেন।

অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল, যা লিতানি নদী থেকে শুরু করে জাহরানি নদীর উত্তরাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা এখন দেশটির প্রায় ১৪ শতাংশ এলাকাজুড়ে কার্যকর হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহে লেবাননে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া দেশটি ছেড়ে চলে গেছেন ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের বড় অংশই পাশের সিরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।

আরও