ইসরায়েলকে ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের অর্থসহায়তা দেয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ সহায়তা বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। খবর রয়টার্স।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের এখন আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। কয়েক মাস আগেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে অর্থসহায়তা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে আর অর্থ দেয়া হবে না। তবে দেশটির প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে।

ট্রাম্পের এ ঘোষণায় ঠিক কোন ধরনের অর্থসহায়তা বন্ধের কথা বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইসরায়েল প্রতিবছর ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে। ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত এ সমঝোতার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। এর পর ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ধরন কী হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সমর্থন কমেছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জুন মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ শতাংশ ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ২০১৭ সালে একই প্রশ্ন করা হলে এ হার ছিল যথাক্রমে ১৬ ও ২০ শতাংশ।

বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি। এমনকি মধ্যপন্থী আইনপ্রণেতারাও কয়েক দশক ধরে চলে আসা ইসরায়েলকে সমর্থনের মার্কিন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

এদিকে এরই মধ্যে শুরু হওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আবদুল এল-সায়েদের। তিনি ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা দেয়ার বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে দেশটির নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।

ট্রাম্পের অভিযোগ, বামপন্থী রাজনীতিকেরা ইসরায়েলকে দেয়া মার্কিন সহায়তাকে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে সমালোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ প্রসঙ্গে এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের যখন অর্থের প্রয়োজন নেই, তখন এ সহায়তার কারণে কেন তাদের সমালোচনার মুখে পড়তে হবে?

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের কিছু সমর্থকও ইসরায়েলের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ইসরায়েল তাকে এমন ধারণা দিয়েছে, যুদ্ধে ইরানকে সহজেই পরাজিত করা সম্ভব।

২০২০ সালে মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলকে অর্থসহায়তা দেয়ার অনুমোদন দিয়ে একটি আইন পাস করে। তবে প্রতিবছর এ অর্থ ছাড়ের জন্য সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদকে বরাদ্দসংক্রান্ত বিল পাস করতে হয়।

গত অক্টোবর মাসে ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু নিজেও ভবিষ্যতে মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে আর অব্যাহত থাকবে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বদলে গেছে।

আরও