‘এক রাতেই পুরো ইরান ধ্বংসের’ হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
ইরানকে লক্ষ্য করে গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘পুরো দেশ এক রাতেই ধ্বংস করে দেয়া সম্ভব। আর সেই রাতটা হয়তো আগামীকালই হতে পারে।’
যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য তেহরানকে দেয়া ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমাই আজই শেষ হবে। একে ‘চূড়ান্ত সময়সীমা’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এর আগে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান এবং এর বদলে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার দাবি জানায় দেশটি।
ইরানকে সতর্ক করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সব জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে, না হলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করা হবে। এতে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতা জোরালো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি
ট্রাম্প এর আগেও ইরানকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন, কিন্তু পরে সরে গেছেন। তবে এবার আরো স্পষ্টভাবে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেন। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল রাত ১২টার মধ্যে ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সব বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বলবে, বিস্ফোরিত হবে। আর কখনো ব্যবহারযোগ্য থাকবে না।’
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, একদমই না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানের জনগণ চায় যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিক, কারণ এতে বর্তমান নেতৃত্বের পতন ঘটতে পারে। তার ভাষায়, ইরানিরা ‘স্বাধীনতার জন্য কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত।’
তবে বাস্তবে কোনো গণঅভ্যুত্থানের লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ইরানের মানুষ বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছুটছেন।
এদিকে ইরানের বড় একটি পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
কায়রোতে ইরানের কূটনৈতিক মিশনের প্রধান মুজতবা ফেরদৌসি পুর বলেন, ‘শুধু তখনই যুদ্ধের সমাপ্তি মেনে নেব, যদি নিশ্চয়তা দেয়া হয় যে আমাদের ওপর আর আক্রমণ হবে না।’
তিনি আরো বলেন, আগের আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র দুবার হামলা চালানোর পর ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ইরানের আর আস্থা নেই।
মানবাধিকারকর্মীরা জানান, আজ ভোরে তেহরানে নতুন করে হামলার ঢেউ শুরু হয়েছে। ইসরায়েল এর দায় স্বীকার করলেও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত দেয়নি।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফান দুজেরিক বলেন, ‘বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন—এটি খুবই স্পষ্ট।’
সূত্র: এপি