দিল্লিতে ধসে পড়েছে ছয়তলা ভবন, ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা

ঘটনাস্থলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার কর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। অন্তত ১২টি ফায়ার টেন্ডার সেখানে পাঠানো হয়েছে। একটি এক্সকাভেটর দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য আরো ভারী যন্ত্রপাতি এবং দুর্যোগ মোকাবেলা দলের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ ইউনিটও মোতায়েন করা হয়েছে।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সত্য নিকেতনে ছয়তলা একটি ভবন ধসে পড়েছে। আজ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। খবর এনডিটিভি।

সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ছয়জনকে ভবনটির ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত দুজনকে উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করতে পেরেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কতজন আটকে আছেন, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো সংখ্যা জানায়নি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার কর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। অন্তত ১২টি ফায়ার টেন্ডার সেখানে পাঠানো হয়েছে। একটি এক্সকাভেটর দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য আরো ভারী যন্ত্রপাতি এবং দুর্যোগ মোকাবেলা দলের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ ইউনিটও মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে এই সত্য নিকেতন এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বসবাস। ওই এলাকায় ধসে পড়া ভবনটির মালিক গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা। ভবনটি ৭৫ শয্যার একটি পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ভবনটি ধসে পড়ার সময় ভেতরে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে পারেন। রোববার হওয়ায় তাদের অধিকাংশই ভবনে ছিলেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনাস্থলে থাকা এক শিক্ষার্থী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনেছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ও যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি কংক্রিটের একটি স্ল্যাবের নিচে আটকে রয়েছেন। কয়েকজন মিলে স্ল্যাবটি সরানোর চেষ্টা করছেন।

ভবন ধসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের ভবনটি খালি করে দেয়া হয়েছে। আটকে পড়াদের নিরাপদে উদ্ধারে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।

দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তারানজিৎ সিং সান্ধু জানান, দ্রুত উদ্ধারকাকে যোগ দিতে দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ওডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটিসহ (ডিডিএমএ) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনিল শর্মা জানান, ভবনের ভেতর থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোন করছেন। ফলে আরো মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে একটি পূর্ণাঙ্গ দল পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আরও