ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার টিকা নিয়ে প্রথমবারের মতো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু

মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করা সংস্থা ‘কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস’ (সিইপিআই) উভয় টিকার গবেষণায় অর্থায়ন করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, শিগগিরই টিকা দুটি এ পরীক্ষায় যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ছড়িয়ে পড়া ইবোলা মহামারি মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানান হয়, ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার এবারের প্রাদুর্ভাব দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ। ইতোমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি হয়েছে। এ মহামারি মোকাবিলায় বড় বাধাগুলোর একটি হলো বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা না থাকা।

ইবোলার তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচিত জাইরে প্রজাতির বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া ‘এরভেবো’ টিকা এবার ডিআর কঙ্গোতে বড় পরিসরে মানবদেহে পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে বান্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাসের বিরুদ্ধেও টিকাটি কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে কি না— তা যাচাই করা হবে।

শুক্রবার ডিআর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় প্রথম ব্যক্তিকে এরভেবো টিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষা শুরু হয়। ইতুরি প্রদেশই বর্তমানে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কেন্দ্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, বিজ্ঞান আমাদের আশা জোগায়। আজ ডিআর কঙ্গোর বুনিয়ায় ‘তুমাইনি’ নামে নতুন ইবোলা টিকার পরীক্ষায় প্রথম অংশগ্রহণকারীদের টিকা দেয়া হয়েছে। সোয়াহিলি ভাষায় ‘তুমাইনি’ শব্দের অর্থ ‘আশা’।’

তিনি বলেন, এ পরীক্ষার মাধ্যমে বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য তৈরি সম্ভাব্য টিকাগুলোর মধ্যে কোনোটি কার্যকর কি না— তা বোঝা যাবে। এরই মধ্যে বিদ্যমান এরভেবো টিকাটিও পরীক্ষা করা হবে বলে জানান তিনি।

তেদরোস আরো বলেন, সমাধান খুঁজে বের করা ও মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে ডিআর কঙ্গোর নেতৃত্বে পরিচালিত এ উদ্যোগে সহায়তা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ‘তুমাইনি’ নামের এ পরীক্ষার আওতায় একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে একাধিক টিকার নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এ পরীক্ষায় ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ, সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদেরকে এ টিকা দেয়া হবে। পরীক্ষায় বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি আরো দুটি সম্ভাব্য টিকা যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

বর্তমানে টিকা দুটি ছোট পরিসরে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর একটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ‘চ্যাডক্স১’ অ্যাডেনো ভাইরাসভিত্তিক টিকা। অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মডার্না প্রতিষ্ঠানের তৈরি এমআরএনএ প্রযুক্তির টিকা।

মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করা সংস্থা ‘কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস’ (সিইপিআই) উভয় টিকার গবেষণায় অর্থায়ন করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, শিগগিরই টিকা দুটি এ পরীক্ষায় যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিইপিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আক্রান্ত জনগোষ্ঠী, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও মহামারি মোকাবিলায় নিয়োজিত অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে তুমাইনি ট্রায়াল। এর মাধ্যমে টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে, যা মহামারি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের জীবন রক্ষা এবং ভবিষ্যতে বান্দিবুগিও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারে সহায়তা করতে পারে।

এ পরীক্ষায় গর্ভবতী নারী ও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু-কিশোরদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যেসব জনগোষ্ঠীকে প্রায়ই বাদ রাখা হয়, তাদের ক্ষেত্রেও টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।

গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোতে দেশটির ইতিহাসে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এর দুই দিন পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। এটি সংস্থাটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তর।

আরও