ফিলিস্তিন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফ্লোরিডার ২০ বছর বয়সী এক নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করেছে ইসরায়েলি দখলদাররা। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি নিজস্ব তদন্ত চালানোর আহ্বান জানিয়েছে নিহতের পরিবার। একইসঙ্গে, তারা হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
নিহত সাইফুল্লাহ মুসাল্লেত, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পশ্চিম তীরে গিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার তাকে তিন ঘণ্টা ধরে ঘিরে রেখে পিটিয়ে হত্যা করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। আহত অবস্থায় তাকে সাহায্য করতে আসা চিকিৎসকদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
তবে তদন্তের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। বরং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে নিহত সাইফুল্লাহর বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় নিজস্ব তদন্ত চালানো থেকে বিরত থেকেছে। বরং ওয়াশিংটন বারবার দাবি করেছে, ইসরায়েল নিজেই এসব ঘটনার তদন্তে সক্ষম। ২০২২ সালের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অন্তত ৯ জন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও আল জাজিরার প্রতিনিধি শিরিন আবু আকলেহ। এসব ঘটনার কোনো ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্টের এই মৌন অবস্থানের সমালোচনায় সরব আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে আরব-আমেরিকান অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটি বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিকদের জীবনকে যেনতেনভাবে মূল্যহীন বিবেচনা করা বন্ধ করা।’
আর আমেরিকান মুসলিমস ফর প্যালেস্টাইন প্রশ্ন তুলেছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তার আমেরিকা ফার্স্ট নীতির প্রতি সৎ থাকবেন? না কি যাই হয়ে যাক আবারও ইসরায়েলের কাছে মাথা নত করবেন?’
ফিলিস্তিনিরা মার্কিন পাসপোর্ট বহন করুক বা না করুক, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত এবং তা বন্ধ, দণ্ডিত ও নিন্দিত হওয়া উচিত বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়। সেইসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষের প্রস্তাব আটকে দেয়।
মানবাধিকার সংস্থা ডন-এর প্রধান সারা লিয়া উইটসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বিচার নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, যেমনটি তারা হামাস সদস্যদের বিরুদ্ধেও করছে। তবে ইসরায়েলি অপরাধীদের ক্ষেত্রে সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা অনুপস্থিত।