চীনের পারমাণবিক শক্তিবৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন

বাগরাম বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

সংবাদ সম্মেলনে বিমানঘাঁটিটির কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ওই ঘাঁটি ফেরত চাই। চীন যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, বিমানঘাঁটিটির অবস্থান ওই জায়গা থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে।’

আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটিতে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পরিত্যাগ করা বিমানঘাঁটি ফিরে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিমানঘাঁটিটির কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ওই ঘাঁটি ফেরত চাই। চীন যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, বিমানঘাঁটিটির অবস্থান ওই জায়গা থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনের দ্রুতগতিতে পারমাণবিক শক্তিবৃদ্ধি ওয়াশিংটনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পেন্টাগনের গত বছর প্রকাশিত এক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেডের মজুদ ৬০০-টিতে উন্নীত করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ মজুদ বেড়েছে ২০ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন ১ হাজার সক্রিয় পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এ মজুদ বাড়িয়ে উন্নীত করা হবে দেড় হাজারে। এসব অনুমান সঠিক হলে, আগামী দশকের মাঝামাঝি নাগাদ চীনের প্রস্তুতকৃত পারমাণবিক ওয়্যারহেডের সংখ্যা নিউ স্টার্ট আর্মস কন্ট্রোল ট্রিটির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মোতায়েনকৃত পরমাণু অস্ত্রের সমান হবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার মাত্র একদিন আগে প্রকাশ্যে বাগরাম বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন ট্রাম্প। আজ শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে টেলিফোনে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টায় এ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আলোচনা ও এর সময় সম্পর্কে নিশ্চিত করে কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এ আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে। শুরুতে বাণিজ্য ও শুল্কবিবাদে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দেখালেও বর্তমানে সেখান থেকে পিছিয়ে এসেছে।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনর্দখলের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানে নতুন করে মার্কিন আক্রমণের মতো দেখাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ ঘাঁটিটি পুনর্দখল ও সেখানে মোতায়েনের জন্য ১০ হাজারের বেশি সৈন্য এবং আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করতে হবে।

আফগান যুদ্ধ চলাকালে বিস্তৃত এই বিমানঘাঁটিই ছিল আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি। সে সময় ঘাঁটিটিতে মার্কিন সেনাদের জন্য বার্গার কিং ও পিজা হাটের মতো ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট, ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে আফগান গালিচা পর্যন্ত নানা ধরনের পণ্যসামগ্রীর দোকান ও বিশাল একটি কারাগার কমপ্লেক্স ছিল।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার সময় দেশটির বাকি অংশের মতো বাগরাম বিমানঘাঁটিও ত্যাগ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিটি পুনর্দখলের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে সক্রিয় থাকা্র কথা নয়। এটি পুনরায় দখল করতে হলে সেটি হবে একটি বিরাট উদ্যোগ, যার জন্য শুধু মেরামতেই প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হবে। তাছাড়া স্থলবেষ্টিত একটি দেশে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন একটি ঘাঁটিতে রসদ ও সরঞ্জামের সরবরাহ পৌঁছানোও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বড় একটি লজিস্টিক সমস্যা হয়ে দেখা দেবে। আর মার্কিন সেনারা ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরও এর চারপাশের এলাকার নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে, যাতে এসব এলাকাকে কেউ মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে না পারে।

আরও