পুতিনের ওপর নারাজ ট্রাম্প, অস্ত্র পাঠাচ্ছেন ইউক্রেনে

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা মিসাইল ও নির্ভুল আর্টিলারি শেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের কিছু চালান স্থগিত করেছিল। সে সময় হোয়াইট হাউজ জানিয়েছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার’ দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগ এক পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।

ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক অস্ত্র সরবরাহে স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আবারো ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর তিনি খুশি নন। ইউক্রেন খুবই কঠিনভাবে আঘাত প্রাপ্ত হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন ট্রাম্প। খবর বিবিসি।

তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ‘প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র’ পাঠাবে যাতে ইউক্রেন আত্মরক্ষায় সক্ষম হয়। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আরো কিছু অস্ত্র পাঠাতে যাচ্ছি। আমাদের পাঠাতেই হবে, ওরা এখন খুব খারাপভাবে মার খাচ্ছে। আমি হতাশ যে প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনো থামেননি।’

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা মিসাইল ও নির্ভুল আর্টিলারি শেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের কিছু চালান স্থগিত করেছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তখন এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেমগুলো ‘বাস্তব অর্থেই জীবন রক্ষা করে।’

সে সময় হোয়াইট হাউজ জানিয়েছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার’ দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগ এক পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।

তবে ট্রাম্পের অবস্থান পাল্টে যায় রাশিয়ার সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর। পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউক্রেনে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র পাঠাচ্ছে যাতে তারা নিজেদের আত্মরক্ষা করতে পারে। অস্ত্র সরবরাহ পুনরায় চালুর এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর তিন বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে ইউক্রেনে। যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের কয়েক দফা শান্তি চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। গত সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প বলেন, ‘এই সংঘাত শেষ করার কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমি মনে করি না তিনি থামার চিন্তা করছেন।’

ওই ফোনকলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া কিয়েভসহ সুমি, খারকিভ, দিনিপ্রোপেত্রভস্ক এবং চেরনিহিভ অঞ্চলে রেকর্ড ৫৩৯টি ড্রোন ও ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

আরও