প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। ৪১ বছর বয়সী এই মার্কিনী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আর্মি সেক্রেটারি। তাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ড্রোন গাই’ বলা হতো। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। খবর বিবিসি, এপি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রিসকলের পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ড্রিসকলের সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের টানাপড়েন নিয়ে আগে থেকেই নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং এগেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেনা বিভাগে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন ড্রিসকল। ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর জোর দেয়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।এমনকি ড্রিসকল মার্কিন সেনাবাহিনীকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন ড্রিসকল। এরপর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি ওই কর্মকর্তা।
আর্মি সেক্রেটারি মার্কিন সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ বেসামরিক পদ। নিয়মিত সেনাবাহিনী ছাড়াও ন্যাশনাল গার্ড এবং রিজার্ভ ফোর্সের সৈন্যদের দেখাশোনার দায়িত্ব থাকে এই পদের ওপর।
সম্প্রতি পদত্যাগ করা উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের তালিকায় ড্রিসকল সর্বশেষ নাম। এর আগে গত এপ্রিলে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানও হঠাৎ পদত্যাগ করেন। এ ছাড়া সেনাপ্রধান র্যান্ডি জর্জ, জেনারেল ডেভিড হডনে এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনও পদ ছেড়েছেন।